ঢাকা    রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা    রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
GTV

ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা


প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে ক্ষমা চাওয়ার পর বনফুলের এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার ইউএনও তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুম থেকে মিষ্টি কেনেন। পরে বাসায় নিয়ে গিয়ে তিনি মিষ্টি পুরোনো বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তিনি ওসমানীনগরের ইউএনওকে অবহিত করেন।

ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ওসমানীনগরের ইউএনও সাধারণ ক্রেতা পরিচয়ে তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুমে যান। সেখানে কর্মচারী মান্নানের কাছে মিষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ড্রাই মিষ্টিগুলো ঈদের আগের এবং সাধারণ মিষ্টিগুলো সেদিনের তৈরি।

এ সময় ইউএনও অভিযোগ করেন, তার কাছে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মান্নান বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে বললে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এতে ভয় পেয়ে মান্নান দোকান ছেড়ে চলে যান।

পরে শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মান্নানকে ডেকে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মান্নান ইউএনওর কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, “আপা, ভুল হয়েছে, আমাকে মাফ করে দেন।” এর পরপরই তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঘটনার পর বনফুল কর্তৃপক্ষ মান্নানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপে তার চাকরি পুনর্বহাল করা হলেও তাকে সিলেট নগরীর খাদিম বিসিক শিল্প এলাকায় বনফুলের কারখানায় বদলি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মান্নান বলেন, “আমি ৩২ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। একজন সাধারণ ক্রেতা ভেবে তথ্য দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি তিনি ইউএনও। ম্যানেজারের পরামর্শে ক্ষমা চাইতে গিয়ে ‘আপা’ বলেছিলাম। এরপর আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এটি আমার প্রতি অবিচার।”

বনফুলের তাজপুর শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া বলেন, “কর্মচারী মান্নান ইউএনও ম্যাডামকে চিনতে পারেনি এবং যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পরে তাকে ক্ষমা চাইতে বললে সে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে। এরপর জরিমানা করা হয়।”

এ প্রসঙ্গে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “শুধু ‘আপা’ ডাকার কারণে কোনো ইউএনও জরিমানা করতে পারেন না। হয়তো ভোক্তা অধিকার বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা কঠিন।”

বক্তব্য জানতে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে হবে।”

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমানও জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানার পরই মন্তব্য করা সম্ভব হবে।

বিষয় : জেলার খবর সিলেট জেলা কর্মচারী অভিযোগ প্রশাসন ওসমানীনগর সিলেট বিভাগ জরিমানা ইউএনও

GTV

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে ক্ষমা চাওয়ার পর বনফুলের এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার ইউএনও তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুম থেকে মিষ্টি কেনেন। পরে বাসায় নিয়ে গিয়ে তিনি মিষ্টি পুরোনো বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তিনি ওসমানীনগরের ইউএনওকে অবহিত করেন।

ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ওসমানীনগরের ইউএনও সাধারণ ক্রেতা পরিচয়ে তাজপুর বাজারের বনফুল শোরুমে যান। সেখানে কর্মচারী মান্নানের কাছে মিষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ড্রাই মিষ্টিগুলো ঈদের আগের এবং সাধারণ মিষ্টিগুলো সেদিনের তৈরি।

এ সময় ইউএনও অভিযোগ করেন, তার কাছে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মান্নান বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে বললে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এতে ভয় পেয়ে মান্নান দোকান ছেড়ে চলে যান।

পরে শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মান্নানকে ডেকে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মান্নান ইউএনওর কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, “আপা, ভুল হয়েছে, আমাকে মাফ করে দেন।” এর পরপরই তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঘটনার পর বনফুল কর্তৃপক্ষ মান্নানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপে তার চাকরি পুনর্বহাল করা হলেও তাকে সিলেট নগরীর খাদিম বিসিক শিল্প এলাকায় বনফুলের কারখানায় বদলি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মান্নান বলেন, “আমি ৩২ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। একজন সাধারণ ক্রেতা ভেবে তথ্য দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি তিনি ইউএনও। ম্যানেজারের পরামর্শে ক্ষমা চাইতে গিয়ে ‘আপা’ বলেছিলাম। এরপর আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এটি আমার প্রতি অবিচার।”

বনফুলের তাজপুর শোরুমের ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া বলেন, “কর্মচারী মান্নান ইউএনও ম্যাডামকে চিনতে পারেনি এবং যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পরে তাকে ক্ষমা চাইতে বললে সে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে। এরপর জরিমানা করা হয়।”

এ প্রসঙ্গে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “শুধু ‘আপা’ ডাকার কারণে কোনো ইউএনও জরিমানা করতে পারেন না। হয়তো ভোক্তা অধিকার বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা কঠিন।”

বক্তব্য জানতে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে হবে।”

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমানও জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানার পরই মন্তব্য করা সম্ভব হবে।


GTV

শেখ তিতুমীর - চেয়ারম্যান-জাতীয় অনলাইন প্রেস কাউন্সিল(কেন্দ্রীয় পরিষদ) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-(স্থায়ী কমিটির সদস্য) সাবেক বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল-(সদস্য) সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলাদেশ ক্রাইম ২৪ নির্বাহী কর্মকর্তা: ড.আকাশ শীল (সাংবাদিকতায় সম্মানসূচক ডক্টর ডিগ্রী প্রাপ্ত.American Merit Council প্রকাশক: আকাশ শীল সম্পাদক: শিব শংকর /সুব্রত দাস সহ- সম্পাদক: লিজা আক্তার হেড এডিটর:শাহিনুর রহমান দপ্তর সম্পাদক: সুমা আক্তার নিবাহী সম্পাদক: শুুকান্ত মিএ নির্বাহী পরিচালক: টুটুল মাহেন্তি
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
0:00 0:00
1.0x