প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের প্রেস ব্রিফিং
||
৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের প্রেস ব্রিফিং “জনগণের ৭ দফা দাবি না মানলে এই আন্দোলন সরকার পতনের এক দফায় রূপ নেবে” কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উর্ধ্বগতি রোধসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের আহ্বানে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ ও সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিং করেছে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত কার্যালয় সংলগ্ন হাজী শরীয়তুল্লাহ এতিমখানায় এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন জানান, ৭ দফা দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দফায় আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে। তিনি কর্মসূচির রুট বিশ্লেষণ করে জানান, লংমার্চের বহরটি ঢাকার বাইতুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে পদ্মাপাড়ের নাওডোবা, বাগেরহাট, খুলনার পাওয়ার হাউস মোড়, ফুলতলা, যশোরের মুরলী মোড় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে একাধিক পথসভার মাধ্যমে অগ্রসর হবে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে বিশাল সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ সম্পন্ন হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “কুষ্টিয়ার এই সমাপনী কর্মসূচি কেবল সাধারণ কোনো জনসভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা লাখো মানুষের মহাসমুদ্রে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।” প্রেস ব্রিফিংয়ে ৭ দফা দাবির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য ও মৌলিক দাবি আদায়ের আন্দোলন।” এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচনের সময় জাতিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৭ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা। জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির লাগামহীন উর্ধ্বগতি রোধ করা। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটানো। প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব স্তরে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ চিরতরে বন্ধ করা এবং চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, “সরকার যদি জনগণের এসব ন্যায্য ও যৌক্তিক ৭ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে না নেয়, তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বাধ্য করবে এই আন্দোলনকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ দিতে।” সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ. কে. এম. আলী মহসিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. এনামুল হকসহ জেলা ও স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত