প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
সারাদেশে আলোচিত ‘হানি ট্র্যাপ’: চট্টগ্রামে চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
||
সারাদেশে আলোচিত ‘হানি ট্র্যাপ’: চট্টগ্রামে চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তারএনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃসারাদেশে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোবারক হোসেন (২৬) ও নুসরাত ফারিয়া (২০)। তাদের বিরুদ্ধে প্রলোভনে ফেলে অপহরণ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার কোতোয়ালি থানার বিশেষ অভিযানে ভুক্তভোগীর শনাক্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে কাজীর দেউড়ি মোড়ে যান। সেখানে চা পান করার সময় নুসরাত ফারিয়া পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর ফাঁদে ফেলেন। পরে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জিম্মি করা হয়।অভিযোগে বলা হয়, সেখানে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ছবি ধারণ করা হয় এবং সেসব ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করে অভিযুক্তরা। পরে তাকে একটি গলিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে শনিবার মামলা রুজু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ও নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।এদিকে গ্রেপ্তারকৃত মোবারক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি স্মার্টফোন, ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি এবং হাত বাঁধতে ব্যবহৃত একটি রশি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মারামারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।‘হানি ট্র্যাপ’ (Honey Trap) বলতে এমন একটি প্রতারণামূলক কৌশলকে বোঝায়, যেখানে প্রেম, আকর্ষণ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে ফাঁদে ফেলে অর্থ, গোপন তথ্য বা ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কল বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তা ধারণ করা হয় এবং পরে সেগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা হয়। হ্যানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যরা সাধারনত সমাজের বিত্তবান নামি-দামি মানুষ যারা চারিত্রিক নৈতিকতায় দূর্বল তাদেরকেই প্রায়োরিটি ভিত্তিক টার্গেট করে তাদের ফাঁদ পাতে।পুলিশ সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সন্দেহজনক সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত