প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
পবনাপুর মহিলা কলেজটির এমপিও নিয়ে অধ্যক্ষ ও এমপি মমতাজ আলোর আলোচনা
||
পবনাপুর মহিলা কলেজটির এমপিও নিয়ে অধ্যক্ষ ও এমপি মমতাজ আলোর আলোচনাগাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃগাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৭ নং পবনাপুর ইউনিয়নের একমাত্র নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পবনাপুর মহিলা কলেজ দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখলেও সরকারি এমপিও সুবিধা না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আজও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য জনাবা মমতাজ আলো-এর সঙ্গে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম. জহুরুল ইসলাম এবং শিক্ষকবৃন্দ।সাক্ষাৎকালে কলেজটির সার্বিক অবস্থা, দীর্ঘদিনের এমপিওবঞ্চনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। কলেজের পক্ষ থেকে দ্রুত এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণেরও অনুরোধ জানানো হয়।স্থানীয়দের মতে, পবনাপুর ইউনিয়নের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল এই কলেজটি। প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী এখান থেকে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে গেলেও সরকারি স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এমপিওভুক্তি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে।কলেজটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রয়াত শিক্ষাবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাদুল্লাপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মোখলেছুর রহমান-এর নাম। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয় পবনাপুর মহিলা কলেজ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্ন আজও এলাকাবাসীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছে।বর্তমান অধ্যক্ষ এস.এম. জহুরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কলেজের সার্বিক অগ্রগতিতে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।কলেজের শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে এমপিওভুক্তির আবেদন জমা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়নের আলো দেখেনি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তবুও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা দায়িত্ব পালন থেকে সরে যাননি।সাক্ষাৎকালে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মমতাজ আলো কলেজের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।এদিকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, নারী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পবনাপুর মহিলা কলেজকে দ্রুত এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের বিশ্বাস, মরহুম শিক্ষানুরাগী মোখলেছুর রহমানের স্বপ্ন এবং বর্তমান অধ্যক্ষ এস.এম. জহুরুল ইসলামের নিরলস প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে এবং উত্তরাঞ্চলে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত