প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
পলাশবাড়ীর মনোহরপুরে ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা ও যাদু প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি বাবলু ব্যাপারীর
||
পলাশবাড়ীর মনোহরপুরে ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা ও যাদু প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি বাবলু ব্যাপারীর গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃগাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ৮ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গ্রাম বাংলার শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা ও মনোমুগ্ধকর যাদু প্রদর্শনী। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও প্রবীণ দর্শকের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত গ্রামীণ মিলনমেলায়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ঝুট ব্যবসায়ী মোঃ বাবলু ব্যাপারী। তিনি বলেন, "গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।" তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁর আন্তরিক বক্তব্য ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিতে উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেই সাথে সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী অনিকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান বানানোর জন্য বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান চৌধুরী। তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক মেম্বার আঃ হাই প্রধান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্ভাব্য মনোহরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ রেজাউল করিম অনিক। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মনিরুজ্জামান মানিক। পুরো আয়োজনজুড়ে গ্রাম বাংলার আঞ্চলিক ভাষা, হাস্যরস ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ধারাভাষ্য দেন তপন শাহ্ তালুক জামিরা, যা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।পাতা খেলায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো ছিল—১ নম্বর দল: ধুল এন্তাজ আলী, বিরামের ভিটা।২ নম্বর দল: ধুল আতিকুর রহমান, দুর্গাপুর।৩ নম্বর দল: ধুল শ্রী প্রবীর চন্দ্র, খেয়াঘাট।তিন দলের খেলোয়াড়রা কৌশল, অভিজ্ঞতা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। মাঠজুড়ে বারবার করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।খেলার বিরতিতে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় যাদু প্রদর্শনী। সেখানে শিল্পী সাবেক মেম্বর আঃ হাই প্রধান বাঁশের পাতা দিয়ে জীবন্ত শিং মাছের আদলে নিপুণ কারুকাজ এবং পলখড় দিয়ে ব্যাঙ তৈরি করে দর্শকদের উপহার দেন। এসব গ্রামীণ হস্তশিল্প ও লোকজ কৌশল শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি প্রবীণদেরও শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। দর্শকদের অনেকেই বলেন, আধুনিকতার ভিড়ে এমন আয়োজন যেন হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার প্রাণকে আবারও জাগিয়ে তুলেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় গ্রামের হাট-বাজার, মেলা ও উৎসবে পাতা খেলা, যাদু খেলা, লোকজ ক্রীড়া ও নানা বিনোদনের আয়োজন ছিল নিয়মিত। সময়ের পরিবর্তনে এসব ঐতিহ্য অনেকটাই বিলীন হতে বসেছে। তাই মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।সব মিলিয়ে লোকজ ঐতিহ্য, আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আনন্দ-উৎসব এবং হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মনোহরপুরের এই আয়োজন হয়ে ওঠে গ্রাম বাংলার প্রাণের উৎসব, যা দীর্ঘদিন দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত