প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
||
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবাকে কোনো চ্যারিটি হিসেবে নয়, বরং সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখছে সরকার। অন্য সকল সাধারণ নাগরিকের মতো প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এরই মধ্যে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের যেকোনো শ্রেণিতে এবং মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নির্মিতব্য সব স্টেশনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু যাতায়াতের র্যাম্প নয়, টিকিট কাটা থেকে শুরু করে বাহনে ওঠা এবং টয়লেট ব্যবহারসহ পুরো ভ্রমণ যেন প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্বিঘ্ন ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত স্কুলগুলোর পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে ড. মুহিত বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত স্কুলগুলোকে আরো সুসংগঠিত করা হচ্ছে যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও শিক্ষার সুযোগ পায়। একইসাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ স্কুলগুলোকেও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হচ্ছে। যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কোনো শিশুই সাধারণ বিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত না হয়। পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্রেইল পদ্ধতি এবং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রকল্প হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ২২টি জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের সার্বিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।’
ভৌত কাঠামোর পাশাপাশি আধুনিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষের ভেতরে কোনো না কোনো বিশেষ মেধা বা দক্ষতা রয়েছে, সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র : ইউএনবি
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত