প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
৬ মাসে চট্টগ্রামে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রশংসায় ভাসছেন মন্ত্রি মীর হেলাল
||
৬ মাসে চট্টগ্রামে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রশংসায় ভাসছেন মন্ত্রি মীর হেলালএনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ১৮০ দিনে ৪৫০ প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টি সম্পন্ন, চলমান ৪৮। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকাতেও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাসেই চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় আসনে ৩২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সড়ক, সেতু-কালভার্ট, খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি, বিদ্যুৎ ও সেচব্যবস্থার পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির-শ্মশানসহ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোতে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।১৮০ দিনে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া ৪৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩২৯টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে সরকারি বরাদ্দে নেওয়া ২৭টি প্রকল্পের সবকটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ।এলাকাবাসী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের উদ্যোগে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে।হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো এলাকায় সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।তিনি জানান, সংসদীয় এলাকায় মসজিদ ও ঈদগাহে ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প। সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট। পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতের ৪৮টি সরকারি প্রকল্পই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে ভূমি ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগগুলোরও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, উন্নয়ন কার্যক্রম শুধু চট্টগ্রাম-৫ আসনে সীমাবদ্ধ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকাতেও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন বলেন, গত ছয় মাসে হাটহাজারীতে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা গত ১৭ বছরেও হয়নি। বিশেষ করে হাটহাজারী বাসস্টেশনে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের ফলে যানজট অনেকটাই কমেছে। বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করায় জলাবদ্ধতাও এবার কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।জাকের হোসেন আরও বলেন, হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ব্যবস্থার উন্নয়নে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।এ বিষয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ১৮০ দিন সময়ের হিসেবে খুবই অল্প হলেও মানুষের প্রতি দায়িত্বের ভার অনেক বেশি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও নিবেদিত থাকার চেষ্টা করেছি।তিনি বলেন, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম ধাপে ধাপে সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হবে। এর মাধ্যমে জনগণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।তিনি আরও জানান, শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারি ফি জমা, খতিয়ান ও ডিসিআর প্রতিলিপি, সার্টিফায়েড কপি, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, খতিয়ান অনুসন্ধান ও যাচাইসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ১৬১২২ হেল্পলাইন থেকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে হাটহাজারী পৌরসভায় ব্যাংক বুথ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সহজ সেবাপ্রাপ্তির মাধ্যমে নাগরিকসেবা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভার ওয়ার্ড, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।এ ছাড়া রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায় বৃহৎ শ্মশান ঘাটে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। রাজস্থলীর দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারসংলগ্ন মির্জাপুর মৌজায় আনুমানিক এক কোটি টাকা বাজারমূল্যের তিন শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। আল মুহসিনাত বালিকা হিফজখানায় ছাত্রীদের বিদ্যুৎ ও লোডশেডিংজনিত দুর্ভোগ কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বিলে কৃষকদের সেচ প্রকল্পের পাইপলাইন নির্মাণ, শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, পশ্চিম চারিয়া কাজীপাড়া-সন্দ্বীপ কলোনি এলাকায় আনিস খালসংলগ্ন রাস্তা মেরামত এবং মেখল ইউনিয়নের হারিয়াননালা খাল পুনঃখনন।এ ছাড়া বউ বাজার থেকে দশতলা পর্যন্ত নালা পরিষ্কার, ফটিকা কামালপাড়া থেকে সেনবাড়ি হয়ে দশতলার পেছনে নালা পরিষ্কার ও খাল খনন, মেখল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহ আলী কাঞ্চনবাড়ি সড়ক মেরামত, চৌধুরীহাট জিসি থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত দাতারাম চৌধুরী সড়ক সংস্কার, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরী ছড়া পুনঃখনন এবং আবদুল গফুর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামতের কাজও চলমান রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত