প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নামার ঘোষণা বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের -
||
শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নামার ঘোষণা বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের - সারাদেশে মানবন্ধন, পুলিশ-প্রশাসনকে সাংবাদিকদের পাশে থাকার আহ্বাননিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা তারিখ: ২৬ আগস্ট ২০২৬শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে এবং সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন ও রাজপথে কঠোর আন্দোলনেরপ্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন এর এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশকে "নিরব দর্শকের ভূমিকা" না নিয়ে শতভাগ সাংবাদিকের পাশে থাকার এবং সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনকে সাংবাদিকদের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।শরীয়তপুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দাবিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার শরীয়তপুরে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লার ওপর যে হামলা, মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন-এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সাংবাদিক ক্ষমতাশালীদের রোষানলে পড়ে নির্যাতন, মামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।কঠোর কর্মসূচির ঘোষণানির্যাতনের প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়:১/ আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।২/ দাবি আদায় না হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন ও স্মারকলিপি প্রদান।প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের প্রতি ৫ দফা দাবি ও আহ্বানবাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়:১/ দ্রুত বিচার: শরীয়তপুরসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া সকল হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।২/ পুলিশের ভূমিকা: সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশকে নিরব না থেকে বরং শতভাগ পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রদান করতে হবে। হামলার শিকার সাংবাদিকদের মামলা ও আইনি সহায়তা দিতে হবে।নিরাপত্তা আইন: ৩/"সাংবাদিক সুরক্ষা আইন" দ্রুত প্রণয়ন করে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।৪/ প্রশাসনের সহযোগিতা: সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের সকল স্তরকে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ না ভেবে সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানাই।৫/. হয়রানি বন্ধ: রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো, মিথ্যা মামলা ও লাঞ্ছিত করা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।সাংবাদিকরাই রাষ্ট্র গঠনের কারিগরমোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন- দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাংবাদিকরাই প্রথম সারির সৈনিক। তারা সত্য প্রকাশ করে বলেই একটি সুন্দর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাংবাদিক কল্যাণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নই, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি সাংবাদিক নিরাপদে কলম ধরতে না পারবে, ততদিন আমাদের রাজপথের আন্দোলন চলবে।শেষে তিনি শরীয়তপুরে আক্রান্ত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত