প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরি হারানোর অভিযোগ মিরপুর গার্লসের শিক্ষিকার
||
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরি হারানোর অভিযোগ মিরপুর গার্লসের শিক্ষিকার১৫ বছর চাকরির পর অব্যাহতি, পুনর্বহালের দাবি রোকেয়া খাতুনেরপ্রিয়া চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারানোর অভিযোগ করেছেন মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ রোকেয়া খাতুন। প্রায় ১৫ বছর চাকরি করার পর ২০২৫ সালের ২২ মে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। বর্তমানে চাকরিতে পুনর্বহাল ও পেশাগত অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকা।সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে রোকেয়া খাতুন এসব অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার কারণে তাকে ‘অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা জিনাত ফারহানা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন।প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগঅভিযোগপত্রে রোকেয়া খাতুন আরও বলেন, চাকরি হারানোর পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিতে যোগদানের অনুমতি দিলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে তাকে কাজে যোগ দিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেনলিখিত অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করেছেন রোকেয়া খাতুন। তার দাবি, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা জিনাত ফারহানার বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমীর বিরুদ্ধে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি অভিযোগপত্রের সঙ্গে দেখা যায়নি।এ ছাড়া প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন ওই শিক্ষিকা।প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুনর্বহালের আবেদনঅভিযোগপত্রের শেষাংশে রোকেয়া খাতুন নিজেকে প্রায় দেড় বছর ধরে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না করে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক পদে তাকে পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।তিনি বলেন, “আমি ন্যায়বিচার ও আমার পেশাগত অধিকার ফিরে পেতে চাই।”যে প্রশ্নগুলো সামনেরোকেয়া খাতুনের অভিযোগ সত্য হলে চাকরি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে কি না, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়ার পরও কেন তাকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ওয়েবসাইটে স্কুলটি মিরপুর-১০, ঢাকায় পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে জিনাত ফারহানার নাম উল্লেখ রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত