প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিচ্ছেদের শেষ প্রান্তে নতুন জীবনের শুরু
||
বিচ্ছেদের শেষ প্রান্তে নতুন জীবনের শুরুএনপিএসের মানবিক উদ্যোগে এক হলো দুই পরিবার, বাবার কোলে ফিরল ৯ মাসের নিষ্পাপ শিশুরাতুল আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টারআদালতে যখন দাম্পত্য বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই বদলে গেল গল্পের শেষটা।ভেঙে যাওয়ার পথে থাকা একটি সংসার আবারও জোড়া লাগল।দুই পরিবারের মধ্যে ফিরে এলো আত্মীয়তার বন্ধন।আর দীর্ঘদিন বাবা-মায়ের ভালোবাসা থেকে দূরে থাকা মাত্র ৯ মাসের নিষ্পাপ শিশুটি ফিরে পেল তার বাবার কোলে এবং মায়ের স্নেহ।এই মানবিক ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালি ২ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি—এনপিএসের উদ্যোগে রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী পারিবারিক পুনর্মিলন।এই মানবিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় ও নেতৃত্বে ছিলেন এনপিএসের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি এবং পিরোজপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার।তাঁর উদ্যোগ, দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক মধ্যস্থতা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও পারিবারিক পরামর্শের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানের পথ তৈরি হয়।গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মেয়ে প্রিয়া এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছেলে সুমিতের প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।বিয়ের পর শুরুতে সংসার ভালোভাবেই চললেও কিছুদিন পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।একপর্যায়ে স্বামীর আঘাতে স্ত্রী প্রিয়া আহত হন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যান প্রিয়া। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক মুরব্বি এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা তাদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।একপর্যায়ে তারা আবারও সংসারে ফিরে আসেন।এরপর তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে কন্যাশিশু।কিন্তু সন্তান জন্মের পরও থামেনি দাম্পত্য বিরোধ।ধীরে ধীরে আবারও দূরত্ব তৈরি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। একপর্যায়ে তারা আলাদা হয়ে পড়েন।শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে দাম্পত্য সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। একের পর এক নোটিশ পাঠানো হয় স্বামীর পক্ষ থেকে।তৃতীয় নোটিশের পর সম্পর্কটি চূড়ান্ত বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।ঠিক এমন সময় মেয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় এক সামাজিক ব্যক্তির মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয় এনপিএসের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সভাপতি আমিনুর শেখের কাছে।বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত যোগাযোগ করেন এনপিএসের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি ও পিরোজপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে।বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগী হন সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার।তিনি যোগাযোগ করেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালি ২ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাবলুর সঙ্গে।দুই পরিবারের বিরোধ মীমাংসায় সহযোগিতার আহ্বানে মানবিকভাবে সাড়া দেন চেয়ারম্যান।তাঁর সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজন করা হয় একটি জরুরি সভার।নির্ধারিত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন দুই পরিবারের সদস্যরা।উপস্থিত ছিলেন এনপিএসের প্রতিনিধি দলও।সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে শুরু হয় দীর্ঘ আলোচনা।প্রথমে স্বামী-স্ত্রী এবং দুই পরিবারের বক্তব্য শোনা হয়। তুলে ধরা হয় দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ভুল বোঝাবুঝি ও পারিবারিক সমস্যার বিভিন্ন দিক।৯ মাসের সেই নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যৎ।বাবার আদর, মায়ের স্নেহ এবং একটি সুন্দর পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার শিশুটির অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার উভয় পক্ষকে আইনি ও সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে পরামর্শ দেন এবং সম্ভব হলে বিরোধ ভুলে শান্তিপূর্ণভাবে সংসার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।অতীতের বিরোধ ভুলে নতুন করে সংসার করার সিদ্ধান্ত নেন স্বামী-স্ত্রী।দুই পরিবারও এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেয়।এরপর ঘটে পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য।৯ মাসের নিষ্পাপ শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয় তার বাবার কোলে।শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নেন বাবা।আর সেই মুহূর্তে যেন বদলে যায় পুরো পরিবেশ।বিচ্ছেদের বিষণ্ণতা পেরিয়ে সেখানে ফিরে আসে আনন্দ।একটি শিশুর জীবনে ফিরে আসে বাবা-মায়ের ভালোবাসার সম্ভাবনা।উপস্থিত অনেকের চোখেই তখন ছিল আনন্দ ও আবেগের অশ্রু।শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কই নয়, এই উদ্যোগে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয় দুই পরিবারের আত্মীয়তার বন্ধনও।অতীতের বিরোধ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পরিবারের সদস্যরা।মালিখালি ইউনিয়ন পরিষদ যেন পরিণত হয় দুই পরিবারের এক মিলনমেলায়।বিচ্ছেদের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া একটি সম্পর্ককে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন এনপিএসের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি ও পিরোজপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারের।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক মুরব্বি, যুবসমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা তাঁর এই উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।এ সময় মালিখালি ২ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাবলু এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দুই পরিবারের বিরোধ মীমাংসায় সহযোগিতা করেন।তিনি এবং উপস্থিত অন্যরা এনপিএসের এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুখময় বাইন—(চন্ঠে), স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা।এছাড়াও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারের সফরসঙ্গী হিসেবে এনপিএসের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন—একটি পরিবারকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করা এবং একটি নিষ্পাপ শিশুকে তার বাবা-মায়ের আদর, স্নেহ ও ভালোবাসার মধ্যে ফিরিয়ে দিতে পারা মানবিকতার বড় অর্জন।তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণসমাধানের সুযোগ থাকলে সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।তিনি চেয়ারম্যান মাহবুবুল ইসলাম, এনপিএস পরিবার এবং এই উদ্যোগে সহযোগিতাকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।একই সঙ্গে এনপিএসের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সবার কাছে দোয়া, আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।একটি সম্পর্ক যখন বিচ্ছেদের শেষ প্রান্তে, তখন সামান্য মানবিক উদ্যোগও কখনো কখনো বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।পিরোজপুরের নাজিরপুরের মালিখালি ইউনিয়ন পরিষদের এই ঘটনা যেন তারই প্রমাণ।বিচ্ছেদের পথে থাকা একটি দাম্পত্য সম্পর্ক ফিরে পেল নতুন জীবন।দুই পরিবারের মধ্যে ফিরে এলো আত্মীয়তার বন্ধন।৯ মাসের একটি নিষ্পাপ শিশু ফিরে পেল তার বাবার কোলে, মায়ের স্নেহে এবং একটি পূর্ণ পরিবারের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার নতুন সুযোগ।মানবিকতার এই উদ্যোগ শুধু একটি সংসারকে রক্ষা করেনি; সমাজের সামনে রেখে গেছে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত