ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
GTV

খোসায় লুকিয়ে আছে পুষ্টি ও নতুন স্বাদ

প্রকৃতি আমাদের যা কিছু দেয়, তার কিছুই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কিন্তু আধুনিক জীবনের অভ্যাসে আমরা ফল আর সবজির আসল উপকারের একটি বড় অংশই ফেলে দিই আবর্জনার ঝুড়িতে। একটি কলার ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং কমলার ২০ শতাংশ জুড়ে থাকে তার খোসা। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হয়, যা ল্যান্ডফিলে পচে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস তৈরি করে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা রান্নায় এই ফেলে দেওয়া অংশগুলোকে ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের পুষ্টির চাহিদাও মেটাতে পারি। প্রকৃতির দেওয়া কিছু উপাদানের সঠিক ব্যবহার খাদ্যের অপচয় ও পরিবেশের দূষণ কমায়। এমনকি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করলে নতুন স্বাদ ও বাড়তি পুষ্টি যোগ করা সম্ভব। খাদ্যশিল্পের ভেতরে সাধারণত ফেলে দেওয়া খোসার পুষ্টি ও শক্তি উভয়কে কীভাবে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে ঘরে বসেই এটি করার বেশ কিছু উপায় রয়েছে। খোসা ব্যবহারের সহজ উপায়গুলোর একটি হলো এমন রেসিপি বেছে নেওয়া, যেখানে শুধু ভেতরের অংশ নয়, ফলের সব অংশই ব্যবহৃত হয়। যেমন কলা ও কলার খোসা দিয়ে তৈরি ব্রেড। দেখে নিন কোন খোসা কীভাবে ব্যবহার করবেন। আদার খোসা খাদ্যবর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। আদার খোসায় বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে, যার ফাইটোকেমিক্যাল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ক্যানসার প্রভাব। আদার খোসা আঁশ ও ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রনসহ অন্যান্য ভিটামিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস। আপনি খোসাসহ আদা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে স্যুপে আদার খোসা দিতে পারেন। তবে ব্লেন্ড করা বা পরিবেশনের আগে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। পানির সঙ্গে ফুটিয়ে আদার ব্রথ তৈরি করুন। এটি ফ্রিজে রেখে স্মুদি, জুস, ককটেল বা সোডা ওয়াটারে যোগ করা যায়। অথবা গাঢ় স্বাদের জন্য ওভেনে খোসাগুলোকে ধীরে ধীরে ভেজে নিয়ে গুঁড়া করে নিন। এই পাউডার দিয়ে সুস্বাদু আদা-চা তৈরি করতে পারেন। এ ছাড়া রান্নায় বা বেকিংয়ে মসলা হিসেবেও এই গুঁড়া ব্যবহার করা যায়। পিলারের বদলে চা-চামচ দিয়ে আদার খোসা ছাড়ানোর চেষ্টা করুন। অনেক রান্নায় মিষ্টিকুমড়ার খোসা ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। তবে মিষ্টিকুমড়াসহ সব ধরনের স্কোয়াশের খোসা এবং বিচি সম্পূর্ণ ভোজ্য। দুটিই আঁশ, ভিটামিন এবং অন্যান্য বায়োঅ্যাকটিভ উপাদানের ভালো উৎস। মিষ্টিকুমড়া ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়ার পর ওপর ও নিচের অংশ কেটে ফেলে দিন। তারপর পিলিং নাইফ দিয়ে যথাসম্ভব পাতলা করে খোসা ছড়িয়ে নিন। এরপর কুমড়াটি লম্বালম্বি কেটে বিচি ও ভেতরের অংশ বের করে আলাদা পাত্রে রেখে দিন এবং কুমড়াটি দিয়ে তরকারি রান্না করে ফেলুন। বীজগুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি তোয়ালেতে জড়িয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর বীজ ও খোসা একটি বাটিতে নিয়ে লবণ, পাপরিকা, স্মোকড পাপরিকা, জিরা ও চিলি ফ্লেক্স এবং সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এয়ার ফ্রায়ারে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ২০ মিনিট বেক করলে এগুলো বেশ কড়মড়ে হয়ে যায়। বেশি শক্ত খোসাগুলো ফ্রিজে রেখে পরে ভেজিটেবল স্টক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। পেঁয়াজের পাতলা কাগজের মতো খোসা আমরা ফেলে দিই। পেঁয়াজের খোসা শুকিয়ে পাউডার বানাতে পারেন। ওভেনে শুকিয়ে ব্লেন্ড করার পর স্বাদ খুব একটা ভালো না লাগলে সেখানে সামান্য লবণ মিশিয়ে সাধারণভাবে মসলা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। খোসাগুলো দিয়ে কাপড় রং করতে পারেন। পেঁয়াজের খোসায় ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। এ ছাড়া ট্যানিন নামক রাসায়নিকও থাকে। পেঁয়াজের এই ট্যানিন সুতি ও লিনেন কাপড়ের জন্য একটি কার্যকর প্রাকৃতিক রং হিসেবে কাজ করে। প্রথমে একটি পরিষ্কার মোজা গরম পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর একটি বড় পাত্রে দুই কাপ পানি ও পেঁয়াজের খোসা দিয়ে ১৫ মিনিট ফোটান, যতক্ষণ না পানি গাঢ় লালচে-হলুদ হয়। এরপর খোসাগুলো তুলে নিয়ে মোজাটি সেই গরম সলিউশনে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর না চিপে ঠান্ডা স্থানে শুকিয়ে নিন। বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের খোসা ব্যবহার করে উজ্জ্বল হলুদ থেকে শুরু করে পাইন গ্রিন রংও পাওয়া সম্ভব। সূত্র: বিবিসি

খোসায় লুকিয়ে আছে পুষ্টি ও নতুন স্বাদ