বাল্যবিবাহ বন্ধের অভিযানে হামলা: শ্রমিক দল নেতাসহ ৫ জনকে জেল-জরিমানা
নওগাঁর আত্রাইয়ে বাল্যবিবাহের আসর থেকে বর-কনেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে হামলা ও বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় শ্রমিক দল নেতাসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় বর ও কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান এ সাজা দেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বিশা ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন, একই গ্রামের মান্নান শেখ ও রাব্বি শেখ। এর মধ্যে মাহাতাব হোসেনকে এক মাস, মান্নান শেখকে এক বছর এবং রাব্বি শেখকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে বিশা ইউনিয়নের একটি এলাকায় ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাস্থলে বাল্যবিবাহের সত্যতা পাওয়ার পর বর ও কনের বাবা-মাকে বিয়ে বাড়িতে আসতে বলা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তাঁরা না আসায় বর-কনেকে আটক করা হয়।
পরে বর-কনেকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরপক্ষের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন লোক গাড়িটি আটকে তাঁদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মোবাইল কোর্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে শাহাদাত হোসেন নামে এক গ্রামপুলিশ আহত হন।
খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিক দল নেতা মাহাতাব হোসেনসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
আজ রোববার ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল কোর্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টার অপরাধে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বরের বাবা ও কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আইন মেনে চলার শর্তে বর ও কনেকে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।