ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
GTV

ছোট হলেও দ্বিতীয় ঢলের প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে: বন্যা বিশেষজ্ঞ

নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যার পর তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিগুলো এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। এ নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের এক বন্যা বিশেষজ্ঞ। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেফ দা কস্তা জানান, দুর্যোগের ফলে নদীগুলোতে ধ্বংসাবশেষ জমে প্রবাহ আটকে গেছে এবং উজানে নতুন নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। জেফ দা কস্তা বন্যার আগাম সতর্কতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দফার বন্যা প্রথমটির চেয়ে বড় না হলেও তা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।’ দা কস্তার মতে, এসব এলাকায় নতুন করে তৈরি হওয়া হ্রদ ও পানির প্রবাহ আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাধাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কোথায় সেগুলো ভেঙে পড়তে পারে- তা নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। চীন ও নেপালের মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের তথ্য আদান-প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কস্তা। কারণ, উজানে যা ঘটে তা খুব দ্রুত সীমান্তের ওপারে বসবাসকারী মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কস্তা বলেন, খুব দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই দুর্যোগ সংঘটিত হয়েছে। দা কস্তা বলেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পুরো হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট এবং পাহাড়ে ঢালের স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন আসছে। তবে আরও বিশ্লেষণ ছাড়া এই নির্দিষ্ট দুর্যোগকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মেলানো যাবে না। এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ভূমিধসের পর তিব্বতে নতুন একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে। শনিবার একটি নজরদারি ড্রোন ভূমিধসটি শনাক্ত করে। এরপর ধ্বংসাবশেষ একটি নদীর প্রবাহ আটকে নতুন লেক তৈরি করেছে। ‘ব্যারিয়ার লেক’ বলতে ধ্বংসাবশেষের স্তূপে নদীর প্রবাহ আটকে জলাশয় তৈরি হওয়াকে বোঝায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হ্রদের পানি উপচে পড়লে নতুন করে বন্যা হতে পারে। চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছে। পাশাপাশি তিব্বতের গিরং বন্দরের কাছে থাকা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ছোট হলেও দ্বিতীয় ঢলের প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে: বন্যা বিশেষজ্ঞ