নদী-খাল-বিলে মাছ বাঁচাতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে, প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম।
জাহাঙ্গীর আলম
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নদী-খাল-বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে অবৈধ রিংজাল ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের জগত বাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন জাল ব্যবসায়ীর দোকান পরিদর্শন করে নিষিদ্ধ রিংজাল বিক্রি, মজুদ ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং অবৈধ জালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালানো হয়।
অভিযানে উপস্থিত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, "রিংজাল শুধু ছোট মাছই নয়, মাছের ডিম ও পোনাও ধ্বংস করে। ফলে নদী-খাল-বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের জলজ সম্পদ রক্ষা করতে হলে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।"তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, তরীর সদস্য খায়রুজ্জামান ইমরান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, কমরেড নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ ও জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, "দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্মুক্ত জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্যসম্পদ নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ রিংজাল ব্যবহারের ফলে নদী, খাল ও বিলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। তাই জলজ সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী এবং জেলেদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই হতে পারে টেকসই সমাধানের অন্যতম উপায়
