তুলশীঘাট পল্লী বিদ্যুতে অনিয়মের অভিযোগ: লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ দুই উপজেলার মানুষ
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধার তুলশীঘাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহকসেবা নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং, মিটার রিডিংয়ে গাফিলতি, নতুন সংযোগ দিতে বিলম্ব এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে। এব্যাপারে এলাকার কয়েকজনের নিকট কথা বললে তাদের মধ্যে ডুমুর গাছা গ্রামের রাজা মিয়া তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমরা বিদুৎতের ভোগান্তি পোয়াচ্ছি। বিশেষ করে গতরাতে ১.৩০ মিনিট থেকে আজ সকাল ৯ টা পর্যন্ত বিদুৎ সংযোগ ছিলোনা। এদিকে পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর, পবনাপুর, নাকাই, হরিনাথপুর, হরিরামপুরসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নে দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
কুমার গাড়ি গ্রামের হাসান মন্ডলের অভিযোগ, নিয়মিত ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি গ্রাহকসেবা নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। কুমার গাড়ি গ্রামের হোসনেআরার দাবি,অনেক ক্ষেত্রে মিটার সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই মিটার রিডার বা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মনগড়াভাবে বিলের পরিমাণ নির্ধারণ করছেন। এতে প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে বিলের অসামঞ্জস্য দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
নতুন গ্রাহকদের মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও অনেক গ্রাহককে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বিভিন্ন স্থানে অটো-সিএনজি চার্জিংসহ বিদ্যুতের বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়ার। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে সংযোগ দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
জনগন প্রশ্ন তুলেছেন—সরকার যেখানে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে, সেখানে একটি সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ কেন নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হবেন? বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, লোডশেডিংয়ের কারণ, মিটার রিডিং এবং নতুন সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—তুলশীঘাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)কে সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মিটার রিডিং ব্যবস্থা কঠোরভাবে তদারকি, গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, নতুন সংযোগে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অভিযোগের দ্রুত তদন্ত হোক, অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং গ্রাহকরা যেন প্রাপ্য সেবা থেকে আর বঞ্চিত না হন।