ঘোগাদহে জনসম্পৃক্ততায় প্রশংসিত চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক
রংপুর বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেক। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে আসছেন বলে দাবি করেছেন তার সমর্থক ও স্থানীয়দের একটি অংশ। গরিব, অসহায়, মেহনতি ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে।সম্প্রতি ঘোগাদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রহ্মপুত্র নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কলার গাছের ভেলা (ভূরা) খেলা। হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্যের এ আয়োজনকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। শিশু-কিশোর, তরুণ, বয়োজ্যেষ্ঠসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে খেলাটি উপভোগ করেন। দীর্ঘদিন পর এমন একটি লোকজ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল মালেক, চেয়ারম্যান, ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদ এবং সদস্য, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল গণি মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগস্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেক ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শোনা, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন বলে তারা জানান।স্থানীয়দের একটি অংশের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো জনগণের কাছে থাকা। সে জায়গা থেকে আব্দুল মালেককে তারা একজন সহজে কাছে পাওয়া যায়—এমন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান। তাদের দাবি, কোনো মানুষ ব্যক্তিগত বা সামাজিক সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করেন।গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশাঘোগাদহ ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি সেবা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আরও সহজলভ্য করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।তাদের কেউ কেউ বলেন, “আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি ধনী-গরিবের পার্থক্য না করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। আমাদের বিপদের সময় যাকে কাছে পাওয়া যায়, মানুষের কথা যিনি শুনবেন—আমরা এমন নেতৃত্বই চাই।”স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করার কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতেও তাকে জনপ্রতিনিধির ভূমিকায় দেখতে চান তারা।মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ইউনিয়নের প্রত্যাশাস্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, ঘোগাদহ ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।ব্রহ্মপুত্র নদীতে ঐতিহ্যবাহী কলার গাছের ভেলা খেলার আয়োজনকে অনেকে সেই সামাজিক সম্পৃক্ততার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।ঐতিহ্যবাহী ভেলা খেলায় মানুষের ঢলঘোগাদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রহ্মপুত্র নদীতে কলার গাছ দিয়ে তৈরি ভেলায় অনুষ্ঠিত খেলাটি দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয়রা। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে খেলাটি দেখতে আসেন।নদীর পানিতে ভেলার চলাচল, প্রতিযোগীদের উৎসাহ এবং দর্শকদের করতালিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন নদী-খাল-বিলে এ ধরনের লোকজ খেলা নিয়মিত দেখা গেলেও আধুনিকতার প্রভাবে এসব আয়োজন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।তাদের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান স্থানীয়দের একটি অংশআগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোগাদহ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেক পুনরায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তাকে ঘিরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জনসম্পৃক্ততা ও সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা তার কাজ দেখেছি, তার সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের কাছে থাকার চেষ্টা করেন—এটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আবার চেয়ারম্যান হলে আমরা তাকে সমর্থন করার বিষয়ে আগ্রহী।”তবে আগামী নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে কার পক্ষে জনগণের রায় যাবে, তা ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।উন্নয়ন ও জনসেবায় ধারাবাহিকতা চান মানুষস্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোগাদহ ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়; মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, তাদের কথা শোনা এবং সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার মধ্যেও তার পরিচয় পাওয়া যায়।রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততামোঃ আব্দুল মালেক স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। ঘোগাদহ ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়রা জানান।তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।জনগণের প্রত্যাশাই হোক ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত্তিঘোগাদহ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—যে-ই আগামী দিনে ইউনিয়নের নেতৃত্বে আসুন না কেন, তাকে হতে হবে জনবান্ধব, দায়িত্বশীল ও সেবামুখী। মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই হওয়া উচিত জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব।ঐতিহ্যবাহী কলার গাছের ভেলা খেলার মতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে যেমন ঘোগাদহের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও মানুষের সম্প্রীতির চিত্র ফুটে উঠেছে, তেমনি স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশা ও মূল্যায়নের বিষয়টিও।সব মিলিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কলার গাছের ভেলা খেলা শুধু বিনোদনের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের মিলনমেলা, সামাজিক সম্প্রীতি ও হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখার একটি প্রাণবন্ত প্রয়াস। আর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেককে ঘিরে স্থানীয়দের একটি অংশের প্রশংসা, আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথাও উঠে এসেছে।