সরকারি রেটের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বদলগাছী উওরা কোল্ড স্টোরেজের
মোঃ রুহুল আমিন,বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে আলু সংরক্ষণকারী কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ৫০ কেজি ওজনের বীজ আলুর বস্তার বিপরীতে ৪২৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কৃষক। তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের মূল্য ৬ টাকা হলে ৫০ কেজির বস্তার ভাড়া হওয়ার কথা ৩০০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে ১২৫ টাকা।সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এবং কোল্ড স্টোরেজের ডেলিভারি রশিদ পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এমন তথ্য পাওয়া গেছে।কৃষকদের অভিযোগ, আলু সংরক্ষণের সময় বস্তার ওজন ৫০ কেজি উল্লেখ থাকলেও ডেলিভারির সময় প্রতি বস্তার জন্য ৪২৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় কৃষকদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ১২৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।কোল্ড স্টোরেজের ডেলিভারি রশিদ অনুযায়ী, রাজপুর গ্রামের কৃষক আবদুল হাকিমের কাছ থেকে ৯ বস্তা আলুর ভাড়া আদায় করা হয়েছে। চাঁপাডাল গ্রামের কৃষক রানা ৫০ কেজি ওজনের ১০৯ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন। তাঁর কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৪২৫ টাকা হিসাবে মোট ৪৬ হাজার ৩২৫ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত রশিদের নম্বর ৩২৭১৫।এ ছাড়া শিমুলিয়া দরগাহ তলা গ্রামের কৃষক হরিপদ ৫০ কেজি ওজনের পাঁচ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন। তাঁর ডেলিভারি রশিদে (রশিদ নম্বর ৩২৭১) বস্তাপ্রতি ৪২৫ টাকা হিসাবে মোট ২ হাজার ১২৫ টাকা ভাড়া আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। একই অভিযোগ করেছেন কৃষক এনামুল হকও। তিনি সাত বস্তা বীজ আলু সংরক্ষণ করেছেন বলে জানা গেছে।অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ইতিমধ্যে একাধিক কৃষক জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ অক্টোবর ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী কৃষকরা।কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে তাদের সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বীজ আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী কৃষকরা।এ বিষয়ে উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ফারহানা হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা। বীজ আলু সংরক্ষণে সরকারি নির্ধারিত ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা কিন্তু কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন কর্তৃক নির্ধারিত কেজি প্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা করে নেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।তবে ৫০ কেজি লেখা বস্তার জন্য ৪২৫ টাকা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফারহানা হক দাবি করেন, বাস্তবে অনেক বস্তায় ৬০ থেকে ৬৮ কেজি পর্যন্ত আলু থাকে। এ কারণেই ভাড়ার পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে তিনি জানান।তবে কৃষকদের প্রশ্ন, কোল্ড স্টোরেজের রশিদে যেখানে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ভিত্তি কী? এ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, নওগাঁর কর্মকর্তা সোহাগ সরকার বলেন, “সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ৬ টাকা। এর বেশি কেউ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোল্ড স্টোরেজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।