বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা ও সঠিক উপকারভোগী বাছাইয়ে গুরুত্ব
রংপুর বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াকুড়িগ্রামের
নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন। সরকারি দায়িত্বকে মানুষের সেবা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নেও সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেনের মতে, সরকারি কোনো কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য শুধু বরাদ্দ দেওয়া বা তালিকা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যে মানুষের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তার কাছেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিকল্প নেই।তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ, পক্ষপাত, প্রভাব কিংবা অনিয়মের কোনো সুযোগ রাখা উচিত নয়। সরকারি বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করেই মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি।দায়িত্বকে দেখেন আমানত হিসেবেনিজের দায়িত্ব ও কর্মজীবন সম্পর্কে মোঃ জামাল হোসেন বলেন, সরকারি চাকরি শুধু একটি পেশা নয়; এর সঙ্গে মানুষের অধিকার, প্রত্যাশা ও কল্যাণের বিষয়টি জড়িত। তাই সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটিকে আমানত হিসেবে নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি।তাঁর ভাষায়, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি আমি সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে চাই। আমার কাজের শুরুটা যেমন ভালো হয়েছে, শেষটাও যেন ভালো হয়—এটাই আমার প্রত্যাশা।”তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের প্রতিটি পর্যায়ে যেন স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হন—সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার প্রত্যয়সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রসঙ্গে সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন বলেন, কর্মসূচিটির সঠিক বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত যোগ্য পরিবার চিহ্নিত করতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। অযোগ্য ব্যক্তি যাতে সুবিধা না পান এবং প্রকৃত উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানান তিনি।তিনি বলেন, “সরকারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কাজ ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড আমাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। আমরা যেন কাজটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে করতে পারি, সে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে সুবিধা না পান—সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।”তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য ও যথাযথ যাচাইয়ের ওপর। তাই কোনো ব্যক্তিগত পরিচয়, সুপারিশ বা প্রভাব নয়—সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।প্রতিটি ইউনিয়নের খোঁজখবর রাখার চেষ্টানাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা। তাঁর মতে, মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রকৃত সমস্যা না জানলে কোনো কর্মসূচির সুফল পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়নের খোঁজখবর নিয়ে দেখার চেষ্টা করি। প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে যেতে চাই।”তাঁর মতে, সমাজের অসহায়, দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধী ভাতায় নিয়ম মানার ওপর গুরুত্বসমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকার সরাসরি জড়িত। ফলে উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে সুবিধা প্রদানের প্রতিটি ধাপেই সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করা জরুরি।তিনি বলেন, প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে হলে প্রথমেই তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নির্ধারিত যোগ্যতা যাচাই ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুবিধা প্রদান করতে হবে। কোনো ব্যক্তির পরিচয় কিংবা সুপারিশের চেয়ে সরকারি নীতিমালাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।‘মানুষের উপকারে আসতে চাই’নিজের কর্মজীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর কাছে বড় বিষয়। দায়িত্বে থাকা সময়টুকু মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান তিনি।তিনি বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি—এটাই বড় বিষয়। যতদিন দায়িত্বে থাকব, ততদিন যেন মানুষের উপকারে আসতে পারি এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেটাই আমার চেষ্টা থাকবে।”তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন।একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে’নিজের দায়িত্ব ও জীবনের শেষ পরিণতি নিয়েও আবেগঘন বক্তব্য দেন জামাল হোসেন। তাঁর মতে, মানুষের জীবন ও কর্মজীবন দুটিই সাময়িক। তাই যতদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে, ততদিন মানুষের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকা উচিত।তাঁর ভাষায়, “একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। আমাকেও একদিন চলে যেতে হবে। তাই যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারি—এটাই আল্লাহর কাছে আমার চাওয়া।”তিনি বলেন, কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন দায়িত্বের প্রতি সৎ থাকা যায় এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখা যায়—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বসামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন।তিনি বলেন, “আল্লাহ যতদিন আমাকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেবেন, ততদিন আইন ও বিধিবিধান মেনে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়মের সুযোগ না রেখে সততা ও নিষ্ঠাকে সামনে রেখেই কাজ করাই আমার লক্ষ্য।”তাঁর মতে, সরকারি সেবা মানুষের অধিকার। তাই সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা এবং সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ফ্যামিলি কার্ডের কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তাঁর ভাষায়, “ফ্যামিলি কার্ডের কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজটি যেন সঠিকভাবে করতে পারি, সেটাই আমার প্রত্যাশা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে চাই। এ কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব।”তিনি বলেন, একটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সফলতা তখনই আসে, যখন সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হয় এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সঠিকভাবে সরকারি সহায়তার আওতায় আসেন। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নেও দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।মানুষের আস্থাই বড় অর্জনসমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন মনে করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষের আস্থা অর্জন করা। একজন কর্মকর্তা কতটা সেবা দিতে পেরেছেন, কতটা নিয়ম মেনে কাজ করেছেন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা কতটা পৌঁছে দিতে পেরেছেন—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত মূল্যায়িত হয়।তিনি বলেন, “যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি। সরকারি দায়িত্বকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”সব মিলিয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে চলমান বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড আমাদের মাধ্যমে বাস্তবায়নেও সরকারি নির্দেশনা, সঠিক তথ্য যাচাই, প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন।তাঁর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর সুফল আরও কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আর সেই লক্ষ্যেই দায়িত্বে থাকা প্রতিটি দিন সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চান তিনি।