অবুঝ তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় গৃহবধূর; তারাকান্দায় আলামিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
মময়মনসিং থেকে মোঃ বাবুল মিয়া
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলামিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. স্বপ্না আক্তার (২৫)। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন সকালে জমিজমা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে স্বপ্না আক্তারের স্বামীর সঙ্গে প্রতিপক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে স্বপ্না আক্তার সেখানে গেলে আলামিন, রিনা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, সাহেদ, খোদেজা আক্তার ও ইসলাম মিয়াসহ অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা একটি শিশুসন্তানও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে স্বপ্না আক্তারের বাবা তাইজ উদ্দিন ও বড় ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। সর্বশেষ গত ১২ জুন আলামিন ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং তার সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একই দিন তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। পরদিন ১৩ জুন তারাকান্দা থানায় অভিযুক্ত ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার বলেন, “আমি এবং আমার সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাকান্দা থানার এসআই আব্দুল হাকিম জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।