একটি পরিবারের কাছে গ্রামের রাস্তা অবরুদ্ধ।
‘প্রায় ১'শ বছরের রাস্তা বন্ধ’ দাবিকে ঘিরে বিভ্রান্তি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
রাসেল মন্ডল
সরিষাবাড়ী (জামালপুর):
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড় বাড়ীয়া গ্রামে একটি চলাচলের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে “সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপের রাস্তা বন্ধ করে বৃদ্ধা ও শিশুকে গৃহবন্দী করার অভিযোগ” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা ওই সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মোস্তাক গাজীর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী প্রথমে মসজিদ নির্মাণের কথা বলে চলাচলের পথের ওপর একটি ঘর নির্মাণ করেন। এতে পথ আংশিক বন্ধ হয়ে গেলে এলাকাবাসী বিকল্পভাবে চলাচল শুরু করে। পরবর্তীতে সেখানে ইট ও লোহার গেট স্থাপন করে তালা দেওয়া হয়। এরপর পুরো পথ বন্ধ করতে ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরো গ্রামের মানুষ একদিকে এবং মনোয়ারা চৌধুরীর পরিবার অন্যদিকে অবস্থান করছে। গ্রামবাসীর দাবি, তারা যে দেয়াল নির্মাণ করেছেন, সেটি সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা থেকে প্রায় ৭৫ মিটার দূরে।
এলাকাবাসীর সম্মিলিত বক্তব্যে জানানো হয়, “ঘটনাটি মূলত জমি ও চলাচলের পথসংক্রান্ত একটি বিরোধ। কিন্তু বাস্তবতা যাচাই না করেই ‘সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপের রাস্তা বন্ধ করে বৃদ্ধা ও শিশুকে গৃহবন্দী করার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমরা কোনো পরিবারকে অবরুদ্ধ করতে চাই না; বরং দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান চাই।”
কামরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষের অসহযোগিতার কারণে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়নি। আজ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিসিল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সে সময় এলাকাবাসী উপস্থিত থাকলেও মৃত মোস্তাক গাজীর পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পরে উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে মীমাংসার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিসিল জানান, “এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাপজোক করে দেখা গেছে, যে পথটি নিয়ে বিরোধ, সেটি সরকারি ম্যাপভুক্ত কোনো রাস্তা নয়। তবে সেখানে দুটি দেয়াল রয়েছে—একটির বিপরীতে আরেকটি দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি রাস্তা না হলেও মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার কোনো বিধান নেই। উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপে দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করেছেন এবং গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।