নরসিংদীর মনোহরদীতে কোচের চর বাজারে অবৈধভাবে মজুদকৃত চোরাই তেল জব্দ করে এসিল্যান্ড মনোহরদী
পারভেজ রানা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ক্রাইম ২৪
ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন এলাকা থেকে (১৭ জুন) একটি ট্রাকে করে প্রায় ৭৫ ড্রাম চোরাইকৃত (Palm Oil) সয়াবিন তেল মনোহরদীর কুচেরচর বাজারে নেয়া হয়। চোরাই কৃত সয়াবিন তেল কোচেরচর বাজারে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির দোকানে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, এই ঘটনার সাথে বিশাল একটি চক্র জড়িত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- এদের মধ্যে কয়েকজনের নামে পূর্বে একাধিক মামলাও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- ১। রাসেল (৩৮), পিতা- সাজা,মিয়া, গ্রাম- কুড়ি পাইকা, মনোহরদী ২। আবুল (৫৫) গ্রাম- কোচেরচর, মনোহরদী ৩। রাজু (৫২) গ্রাম- কোচের চর, মনোহরদী ৪। জামাল উদ্দিন (৫০), পিতা- মৃত বাদশা মিয়া, গ্রাম- কুড়িপাইকা, মনোহরদী ৫। শরিফ মাহমুদ খান বাহালুল (৪৮) আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান, গ্রাম- কুচেরচর পূর্বপাড়া, মনোহরদী ৬। রকিব (৩৫) পিতা- বাবুল মুন্সি, গ্রাম- কোচেরচর, মনোহরদী ৭। কিরণ (৩০) পিতা- মৃত আজগর আলী, গ্রাম কুড়ি পাইকা, মনোহরদী ৮। কিশর (৪৫) পিতা- মোসলে উদ্দিন, গ্রাম- কুচেরচর, মনোহরদী ৯। কাশেম (৩৮) পিতা- কাজিমুদ্দিন, গ্রাম- কুড়ি পাইকা, মনোহরদী
১০। ফারুক আকন্দ (৫৫), দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ১১। সজল (৫২) কুচের চর, মনোহরদী ১২। কাদির (৫৫), সাবেক একদুয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
এছাড়াও অজ্ঞাত আরো অনেক ব্যক্তি এই ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
(১৭ জুন) বুধবার রাত আনুমানিক ১২ টায় কুচের চর বাজারে আবুল নামক ব্যক্তির দোকানে ৭৫ টি সয়াবিন তেলের ড্রাম রাখা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের প্রত্যেকেই তেল বিক্রির জন্য মনোহরদীর হাতিরদিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীদের ফোন করলে তারা তেল কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। তার পরের দিন (১৮ জুন) বৃহস্পতিবার দিন গড়িয়ে রাত পেরোলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায় এবং স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায় - কামরুল তেলের ভাগের টাকা রকিব নামক ব্যক্তিকে না দিতে অস্বীকৃতি জানালে রকিব এতে রেগে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং কামরুলকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে রকিব এসিল্যান্ড মনোহরদী মোঃ সজিব মায়া কে ফোন করলে তিনি মোবাইল কোর্ট নিয়ে কোচেরচর বাজারে হাজির হয় এবং তেল জব্দ করে। ৭৫ টি তেলের ড্রামের মধ্যে এসিল্যান্ড মনোহরদী মোঃ সজিব মিয়া ৪৮ টি তেলের ড্রাম জব্দ করে নিয়ে আসে এবং বাকি ২৭ টি তেলের ড্রাম স্থানীয়ভাবে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তার মধ্যে ফারুক, শরীফ মাহমুদ খান বাহালুল, সজল, রকিব, কিশোর, কাশেম ও কিরণসহ ও কুচেরচরের স্থানীয় আরো নেতাকর্মীরাও এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে (১৯ জুন) শুক্রবার কোচের চর বাজারে স্থানীয় নেতাকর্মীরা একটি মিটিং করে। উক্ত মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন - ফারুক, সজল, কিশোর, রকিব, আবুল, জামাল উদ্দিন, শরীফ মাহমুদ খান বাহালুল ও কামরুল সহ আরো অনেকে। উক্ত মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়- যারা আশুলিয়া থেকে তেল নিয়েছে তাদেরকে ৫০% দিয়ে দেয়া হবে এবং স্থানীয়ভাবে বাকি ৫০% তারা রেখে দিবে।
অভিযুক্ত কাদিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ ক্রাইম ২৪ কে বলেন- রাজনৈতিক কারণে স্থানীয়ভাবে আওয়ামীলীগের লোকজন ও তার অন্যান্য কিছু ব্যক্তিগত শত্রুরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে এই ঘটনার সাথে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সয়াবিন তেল কুচেরচর বাজারে আসার পর চক্রের লোকজন তাকে একাধিকবার ফোন করে এবং তাদের সাথে তার যোগাযোগ হয়। এছাড়াও উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত চক্রটি তাকে সয়াবিন তেল বিক্রি করে দিতে অনুরোধ করে তখন তিনি হাতিরদিয়া বাজারের দু'এক জন ব্যবসায়ীকে ফোন করে এবং তারা তা কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু উক্ত ঘটনার সময় রাতে যখন ফোনে কথা হচ্ছিল তখন তিনি তার নিজ বাড়িতে ছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরো বলেন- তিনি বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ১৭ বছর ধরে একাধিকবার অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের লোকেরা তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। তখন সে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৫ই আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত সাবেক দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মাহমুদ খান বাহালুল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার বাড়িতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে সে আর্থিক এবং মানসিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কুড়িপাইকা গ্রামের সকল লোকজন তা জানে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সকলেই এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলেরই সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানায়।