ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছেন স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) দিনগত রাত ২টার দিকে দাগনভূঁঞা এলাকা থেকে অভিযুক্ত শাহ পরানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দাগনভূঁঞা উপজেলার দক্ষিণ নেওয়াজপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।
নিহত নুর নবী হোসেন (৩০) ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আবদুর রবের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নদীভাঙনের পর পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় চলে গেলেও নুর নবী হোসেন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে বোতল কুড়িয়ে বিক্রি ও দিনমজুরির কাজ করতেন। দাগনভূঁঞা উপজেলার বাসিন্দা বিবি ফাতেমার সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং দুজন একসঙ্গে সেখানে থাকতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নুর নবী ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেন (৪০) নুর নবীর স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত ও স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। এসময় নুর নবীর ঘুম ভেঙে যায়।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে নুর নবী পরানকে ঘুসি মারলে সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে নুর নবীর পেটের দুই স্থানে আঘাত করে পরান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নুর নবীকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পুনরায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসক সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনবারহাট্টায় কীটনাশক পান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেখানো মতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচের একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া শাহ পরানের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।