আসছে শুভ জন্মাষ্টমী: আগামী ৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে উদযাপিত হবে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব-
কিরন বাঁসফোর | হরিজন সারাক্ষণ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার উদযাপিত হতে যাচ্ছে। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে অধর্মের বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য এই তিথিতে মর্ত্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। দিনটি ঘিরে দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে এখন থেকেই বইছে আনন্দের জোয়ার।আগামী শুক্রবারের এই মহাসমারোহকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মন্দির এবং মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শ্রীকৃষ্ণের জন্মলীলাকে স্মরণ করে নানা রঙের ফুল, আলোকসজ্জা এবং বাহারি সাজে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপগুলো। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও বিভিন্ন মন্দিরের আয়োজনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। অনেক স্থানে শিশুদের রাধা-কৃষ্ণ রূপে সাজানোর প্রস্তুতি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ভাদ্রপদ কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে উদযাপিত হবে এই মহোৎসব। দিনটিতে ভক্তরা উপবাস ব্রত পালন করবেন। তিথি মেনে গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব বা মহাষ্টমী পূজা। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ‘জয় শ্রীকৃষ্ণ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে প্রতিটি পূজামণ্ডপ। মধ্যরাতে ভক্তরা চরণামৃত গ্রহণ ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ব্রত ভাঙবেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরে আয়োজিত হবে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক আলোচনা সভা, ভক্তিগীতি পরিবেশনা ও গীতা পাঠ।ধর্মীয় বক্তারা জানান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনদর্শন ও গীতার বাণী মানবজাতিকে সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।আগামীকালের এই পবিত্র উৎসব সবার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি বয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা সনাতনী ভক্তদের।
- হরিজন সারাক্ষণ