ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
GTV

ঠাকুরগাঁও বুঁড়িবাধে মাছ ধরার মহা উৎসব


প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঠাকুরগাঁও বুঁড়িবাধে মাছ ধরার মহা উৎসব

ঠাকুরগাঁও বুঁড়িবাধে মাছ ধরার মহা উৎসব

মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ     

ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সুক নদীর বুড়ি বাঁধে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেন হাজারও মানুষ। বুড়ির বাঁধে ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঢল নামে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মাছ শিকারিদের। ঐতিহ্যবাহী এই মাছ উৎসবে অংশ নিয়ে শনিবার দিনব্যাপী আনন্দে মেতে উঠেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন সেচ সুবিধার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের বংশবিস্তার হচ্ছে এই প্রকল্পে। মিটছে মানুষের আমিষের চাহিদা।

একে একে শত শত জাল পানিতে ফেলছেন মাছ শিকারিরা। কেউ ডাঙ্গায়, কেউ কলা গাছের ভেলায়, আবার কেউ ছোট নৌকায় করে ফিকা জাল নিয়ে নেমেছেন মাছ ধরার এক প্রতিযোগিতা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সুক নদীর বুড়ি বাঁধে মাছ ধরা উৎসব শুরু হয়েছে। এ উৎসবকে ঘিরে বাঁধে মাছ ধরতে ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বাংলা পঞ্জিকার কার্তিক মাসের শুরুতে যখন আর আমন ধানে সেচের প্রয়োজন হয় না তখন খুলে দেওয়া হয় জলকপাট। শুক্রবার বিকেলে বাঁধের পানি ছেড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। পানি কমতে শুরু করলে গভীর রাত থেকে মাছ শিকারিরা পানিতে নামেন মাছ ধরার জন্য। শনিবার সকাল থেকে মাছ নিয়ে ডাঙ্গায় ফিরে আসেন তারা।

এ উপলক্ষ্যে হাজার হাজার মানুষ আসেন মাছ শিকার করতে। অনেকে আসেন মাছ কিনতে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আশপাশের শহর-গ্রামের লোকজন। এটা একসময় রূপ নেয় মাছ ধরার উৎসবে। যা চলে তিন-চার দিন। মাছ ধরা এই উৎসব ঘিরে এলাকা পরিণত হয় মানুষের মিলন মেলায়। বিশেষ করে বাঁধটিতে দেশির প্রজাতির পুটি, ফলি, শিং, শোল, টেংরা, টাকি, মাছ বেশ ভালো পাওয়া যায় যা বাধের সামনেই দামে বিক্রি হয়

স্থানীয়দের পানির চাহিদা পূরনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমির উপর বাধটি নির্মাণ করেন ১৯৫২ সালে। যা পরে ১৯৭৮ সালে সংস্কার করা হয় চাষিদের সুবিধা দিতে। চলতি বছর বাঁধটির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২ শ হেক্টর উচু জমির আমন ধানে সেচের চাহিদা পূরণ করেন ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সদর উপজেলার রহিমানপুর এলাকার মাছ শিকারি মেহেরাব আলী বলেন, স্থানীয়রা রিং জাল ব্যবহার করে অন্যদের মাছ ধরতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কেউ অনক মাছ পেয়েছে। আবার কেউ খালি হাতে ফেরত গেছে।

ঠাকুরগাঁও শহরের কালিতলা এলাকার আব্দুল্লাহ আজাদ বলেন, হাজার হাজার মাছ শিকারিসহ দর্শনার্থীরা ছুটে আসে বাঁধ এলাকায়। মাছ ধরার  দৃশ্য দেখে খুব ভালো লাগছে। মাছ নিয়েছি একটু বেশি দাম তবে এখানকার অনেক স্বুসাদু। এটা একটা মিলন মেলার মাধ্যম।

স্থানীয় আকচা এলাকার সাহিরুল ইসলাম বলেন, মাছ যাই পাওয়া যাক না কেন আনন্দটা সবচেয়ে বেশি। হাজার হাজার মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়। আমরা প্রতিবছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি।

ভুল্লী এলাকার মৎস্য শিকারি খাদেমুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা রিং জাল ব্যবহার করে অন্যদের মাছ ধরতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। জাল দিয়ে আগেই বাঁধের মাছ ধরা নিয়েছে। মাছ কম পেলেও এখানে আনন্দটা অনেক ভাগাভাগি করা যায়। এ কারণেই আাসা। 

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডেট নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সম্পূরক সেচ প্রদান করি। সেচ প্রদান কালিন সময়ে এক বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়। দেশী প্রজাতির যে মাছ এটা অভয়আশ্রম হিসেবে কাজ করে। এবং সেচ মৌসূম শেষে আমরা যখন পানিকে উন্মুক্ত করে দেই তখন একনে মাছ উৎসব পালিত হয়। স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মাছ উৎসব পালন করেন। এছরও ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে মাছ উৎসব পালিত হচ্ছে। দেশী প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বিলুপ্ত হওয়া থেকে এই কার্যক্রম ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলম বলেন, বুড়ির বাধে দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষায় কাজ করছি। সেই সাথে আগামীতে মাছ যেন আরও বেশি পরিমাণে হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখছি। চলতি বছর একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করে রিং জাল ধংস করা হয়েছে বুড়ির বাঁ থেকে। দিন দিন মানুষের বিনোদনের জায়গা কমে যাচ্ছে। তাই কেউ আসছেন মাছ শিকার করতে আবার অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন বিনোদনের উদ্দেশ্যে। সর্বপরি বুড়ির বাঁধে মাছ উৎসবে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

শুধু ঠাকুরগাঁও নয় আশপাশের জেলা গুলো থেকেও অনেক মানুষ আসেন বুড়ি বাঁধের মাছ উৎসবে। মাছ ধরার উৎসব যেন এলাকার পরিনত হয় মিলন মেলায়।

GTV

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ঠাকুরগাঁও বুঁড়িবাধে মাছ ধরার মহা উৎসব

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁও বুঁড়িবাধে মাছ ধরার মহা উৎসব

মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ     

ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সুক নদীর বুড়ি বাঁধে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেন হাজারও মানুষ। বুড়ির বাঁধে ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঢল নামে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মাছ শিকারিদের। ঐতিহ্যবাহী এই মাছ উৎসবে অংশ নিয়ে শনিবার দিনব্যাপী আনন্দে মেতে উঠেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন সেচ সুবিধার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের বংশবিস্তার হচ্ছে এই প্রকল্পে। মিটছে মানুষের আমিষের চাহিদা।

একে একে শত শত জাল পানিতে ফেলছেন মাছ শিকারিরা। কেউ ডাঙ্গায়, কেউ কলা গাছের ভেলায়, আবার কেউ ছোট নৌকায় করে ফিকা জাল নিয়ে নেমেছেন মাছ ধরার এক প্রতিযোগিতা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সুক নদীর বুড়ি বাঁধে মাছ ধরা উৎসব শুরু হয়েছে। এ উৎসবকে ঘিরে বাঁধে মাছ ধরতে ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বাংলা পঞ্জিকার কার্তিক মাসের শুরুতে যখন আর আমন ধানে সেচের প্রয়োজন হয় না তখন খুলে দেওয়া হয় জলকপাট। শুক্রবার বিকেলে বাঁধের পানি ছেড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। পানি কমতে শুরু করলে গভীর রাত থেকে মাছ শিকারিরা পানিতে নামেন মাছ ধরার জন্য। শনিবার সকাল থেকে মাছ নিয়ে ডাঙ্গায় ফিরে আসেন তারা।

এ উপলক্ষ্যে হাজার হাজার মানুষ আসেন মাছ শিকার করতে। অনেকে আসেন মাছ কিনতে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আশপাশের শহর-গ্রামের লোকজন। এটা একসময় রূপ নেয় মাছ ধরার উৎসবে। যা চলে তিন-চার দিন। মাছ ধরা এই উৎসব ঘিরে এলাকা পরিণত হয় মানুষের মিলন মেলায়। বিশেষ করে বাঁধটিতে দেশির প্রজাতির পুটি, ফলি, শিং, শোল, টেংরা, টাকি, মাছ বেশ ভালো পাওয়া যায় যা বাধের সামনেই দামে বিক্রি হয়

স্থানীয়দের পানির চাহিদা পূরনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমির উপর বাধটি নির্মাণ করেন ১৯৫২ সালে। যা পরে ১৯৭৮ সালে সংস্কার করা হয় চাষিদের সুবিধা দিতে। চলতি বছর বাঁধটির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২ শ হেক্টর উচু জমির আমন ধানে সেচের চাহিদা পূরণ করেন ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সদর উপজেলার রহিমানপুর এলাকার মাছ শিকারি মেহেরাব আলী বলেন, স্থানীয়রা রিং জাল ব্যবহার করে অন্যদের মাছ ধরতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কেউ অনক মাছ পেয়েছে। আবার কেউ খালি হাতে ফেরত গেছে।

ঠাকুরগাঁও শহরের কালিতলা এলাকার আব্দুল্লাহ আজাদ বলেন, হাজার হাজার মাছ শিকারিসহ দর্শনার্থীরা ছুটে আসে বাঁধ এলাকায়। মাছ ধরার  দৃশ্য দেখে খুব ভালো লাগছে। মাছ নিয়েছি একটু বেশি দাম তবে এখানকার অনেক স্বুসাদু। এটা একটা মিলন মেলার মাধ্যম।

স্থানীয় আকচা এলাকার সাহিরুল ইসলাম বলেন, মাছ যাই পাওয়া যাক না কেন আনন্দটা সবচেয়ে বেশি। হাজার হাজার মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়। আমরা প্রতিবছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি।

ভুল্লী এলাকার মৎস্য শিকারি খাদেমুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা রিং জাল ব্যবহার করে অন্যদের মাছ ধরতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। জাল দিয়ে আগেই বাঁধের মাছ ধরা নিয়েছে। মাছ কম পেলেও এখানে আনন্দটা অনেক ভাগাভাগি করা যায়। এ কারণেই আাসা। 

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডেট নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সম্পূরক সেচ প্রদান করি। সেচ প্রদান কালিন সময়ে এক বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়। দেশী প্রজাতির যে মাছ এটা অভয়আশ্রম হিসেবে কাজ করে। এবং সেচ মৌসূম শেষে আমরা যখন পানিকে উন্মুক্ত করে দেই তখন একনে মাছ উৎসব পালিত হয়। স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মাছ উৎসব পালন করেন। এছরও ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে মাছ উৎসব পালিত হচ্ছে। দেশী প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বিলুপ্ত হওয়া থেকে এই কার্যক্রম ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলম বলেন, বুড়ির বাধে দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষায় কাজ করছি। সেই সাথে আগামীতে মাছ যেন আরও বেশি পরিমাণে হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখছি। চলতি বছর একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করে রিং জাল ধংস করা হয়েছে বুড়ির বাঁ থেকে। দিন দিন মানুষের বিনোদনের জায়গা কমে যাচ্ছে। তাই কেউ আসছেন মাছ শিকার করতে আবার অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন বিনোদনের উদ্দেশ্যে। সর্বপরি বুড়ির বাঁধে মাছ উৎসবে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

শুধু ঠাকুরগাঁও নয় আশপাশের জেলা গুলো থেকেও অনেক মানুষ আসেন বুড়ি বাঁধের মাছ উৎসবে। মাছ ধরার উৎসব যেন এলাকার পরিনত হয় মিলন মেলায়।


GTV

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত গোল্ডেন টেলিভিশন লিমিটেড রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার: C-214949/2026 শিব শংকর মনি দাস Managing Director আকাশ শীল Director
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ঠাকুরগাঁও বুঁড়িবাধে মাছ ধরার মহা উৎসব
0:00 0:00
1.0x