ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার মিঠু হার্ডওয়্যার স্টোরে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন, চীনা নাগরিক চ্যান শিন ওরফে চাও শিন এবং যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন। বর্তমানে তারা কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মিঠু হার্ডওয়্যার স্টোরের মালিক মিঠু মজুমদার জানিয়েছেন, যশোর আইটি পার্কে কর্মরত পরিচয় দিয়ে ইব্রাহিমসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তার দোকান থেকে বিভিন্ন মালামাল কিনতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত সোমবার ওই চীনা নাগরিক, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন তার দোকানে যান। তারা ৪৬ হাজার টাকার পণ্য কেনার পর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে মিঠুর ব্যাংক হিসাবে ৭ লাখ টাকা পাঠান।
তিনি জানান, ওই সময় প্রতারকচক্রের সদস্যরা তাকে জানান পণ্যের মূল্য বাদে বাকি টাকার বিনিময়ে তাদের একটি ব্যাংক চেক দিতে হবে। আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় এবং নিজের ব্যাংক হিসাবে ৭ লাখ টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি তাদের একটি চেক দেন। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি ওই চেক ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে সটকে পড়ে বলে মিঠুর অভিযোগ।
কিছু সময় পর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিঠু মজুমদারকে ব্যাংকে ডেকে পাঠায়। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ঢাকার টঙ্গি এলাকার ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ৭ লাখ টাকা তার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে পরে সেই টাকা চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মিঠু মজুমদার বলেন, এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে আরএন রোড এলাকার আরেকটি দোকানে ওই চীনা নাগরিক ও ইব্রাহিমকে তিনি দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চীনা নাগরিকের নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তবে তার বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং হ্যাক হওয়া ব্যাংক হিসাব থেকে কীভাবে টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।