ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
GTV

কলেরা হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কলেরা হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কলেরা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে এটি খুব দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।’

তিনি বলেন, ‘টিকাই একমাত্র সমাধান নয়, আমি একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই কলেরা প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু টিকা একা যথেষ্ট নয়।’

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে কলেরা প্রতিরোধে ঝুঁকিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আমাদেরকে একটি টার্গেটেড ইভিডেন্স বেজড এবং প্রিভেন্টিভ এপ্রোচ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণেই রোগের বোঝা, পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’

রোগ প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি না। বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।’

প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তিরও কার্যকর ব্যবহার করছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজস্ব ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ মনিটরিং, প্রোগ্রাম সুপারভিশন এবং পরবর্তী মূল্যায়ন আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে, গর্ভবতী নারী ছাড়া, বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ টিকা খাওয়ানো হবে। সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসসিসির অধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

বিষয় : সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

GTV

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


কলেরা হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কলেরা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে এটি খুব দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।’

তিনি বলেন, ‘টিকাই একমাত্র সমাধান নয়, আমি একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই কলেরা প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু টিকা একা যথেষ্ট নয়।’

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে কলেরা প্রতিরোধে ঝুঁকিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আমাদেরকে একটি টার্গেটেড ইভিডেন্স বেজড এবং প্রিভেন্টিভ এপ্রোচ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণেই রোগের বোঝা, পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’

রোগ প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি না। বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।’

প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তিরও কার্যকর ব্যবহার করছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজস্ব ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ মনিটরিং, প্রোগ্রাম সুপারভিশন এবং পরবর্তী মূল্যায়ন আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে, গর্ভবতী নারী ছাড়া, বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ টিকা খাওয়ানো হবে। সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসসিসির অধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।


GTV

শেখ তিতুমীর - চেয়ারম্যান-জাতীয় অনলাইন প্রেস কাউন্সিল(কেন্দ্রীয় পরিষদ) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-(স্থায়ী কমিটির সদস্য) সাবেক বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল-(সদস্য) সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলাদেশ ক্রাইম ২৪ নির্বাহী কর্মকর্তা: ড.আকাশ শীল (সাংবাদিকতায় সম্মানসূচক ডক্টর ডিগ্রী প্রাপ্ত.American Merit Council প্রকাশক: আকাশ শীল সম্পাদক: শিব শংকর সহ- সম্পাদক: লিজা আক্তার হেড এডিটর:শাহিনুর রহমান দপ্তর সম্পাদক: সুমা আক্তার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কলেরা হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
0:00 0:00
1.0x