সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান।
মোঃ আমজাদ আলী (বাদশা)ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল আমিন জুয়েলকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে শহরের মেড্ডা এলাকা থেকে সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে বিকেলেই তাঁকে সদর মডেল থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল আমিন জুয়েল নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন কথিত কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভনের ফেসবুক আইডি থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক ভিডিও পোস্ট করা হতে দেখা যায়।এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন আফ্রিদীর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, নেতা লিমন আল স্বাধীনের পরিচালনায় দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণ, এবং শহরের বিভিন্ন দেয়ালে পোস্টারিং ও বৃক্ষরোপণের নানা ছবি-ভিডিও প্রচার করা হয়। তবে পোস্টগুলোর কোথাও কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব প্রচারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা-পুলিশ।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ১৫ আগস্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর বা শহরের কোথাও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো প্রকার অপ্রীতিকর বা প্রকাশ্য কর্মসূচি পালিত হয়নি।ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয় এগুলো অন্য এলাকার অথবা পূর্বের কোনো কর্মসূচির পুরোনো ফুটেজ। এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশেরন একাধিক টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এ সংক্রান্ত ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।বর্তমানে সদর উপজেলা ও শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।