যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে বের করে দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, কোলে দেড় বছরের শিশু নিয়ে বিচারে আকুতি রিমুর
নীলফামারী প্রতিনিধি: মোঃ ইবনে আলী সরকার।
যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিশেষে কোনো স্থানীয় সালিশ বৈঠক ছাড়াই কোলের দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকসেবী স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অসুস্থ স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে রেখে গোপনে উত্তরা ইপিজেডের এক নারী শ্রমিককে দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রথম স্ত্রীকে নোটিশের মাধ্যমে তালাক পাঠিয়েছেন ওই পাষণ্ড স্বামী। অসহায় এই গৃহবধূর নাম মোসাম্মৎ রিমু আক্তার। ন্যায়বিচার এবং শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের দাবিতে এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী জেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের মধ্য সুটিপারা গ্রামে। অভিযুক্ত স্বামী আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ও মোসাম্মৎ নাসিমা আক্তারের ছেলে।
যৌতুকের জন্য ক্রমাগত নির্যাতন:
ভুক্তভোগী রিমু আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম যৌতুকের জন্য নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। রিমুর বাবা একজন দরিদ্র ভ্যানচালক হওয়া সত্ত্বেও মেয়ের সুখে সংসার করার আশায় দুই-তিন মাস পর পর কষ্টার্জিত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে জামাইয়ের হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু মাদকাসক্ত আশরাফুলের টাকার লোভ দিন দিন বাড়তেই থাকে।
হাসপাতালে ভর্তি ও দ্বিতীয় বিয়ে:
সম্প্রতি রিমু আক্তারের ভ্যানচালক বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আশরাফুলের দাবি করা ১০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে ব্যর্থ হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকাসক্ত আশরাফুল রিমুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। খবর পেয়ে রিমুর বাবা ও চাচা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে রিমু কিছুদিন বাপের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে প্রথম স্ত্রীর কোনো খোঁজখবর না নিয়ে আশরাফুল গোপনে উত্তরা ইপিজেড-এর ‘এভারগ্রীন’ কোম্পানিতে কর্মরত দুই সন্তানের জননী এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
সালিশ ছাড়াই তালাক ও বিচারে আকুতি:
দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানতে পেরে রিমু আক্তার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে আশরাফুল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কোনো সালিশি বৈঠক না ডেকে কিংবা আলোচনার সুযোগ না দিয়ে, কোলঘেঁষা দেড় বছরের অবুঝ শিশুকেসহ রিমুকে কোর্টের মাধ্যমে একতরফা তালাকনামা পাঠিয়ে দেন।
বর্তমানে দেড় বছরের ফুটফুটে সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও জীবনসংকটে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় রিমু আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার গরিব ভ্যানওয়ালা বাবা রক্ত পানি করে টাকা দিয়েছে। আজ আমার কোলশিশুটার অপরাধ কী? আমি এই পাষণ্ড স্বামী ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আমার ও সন্তানের অধিকারের জন্য আইনের কাছে সঠিক বিচার চাই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরাও ভুক্তভোগী নারী ও অবুঝ শিশুর অধিকার রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।