ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
GTV

নিজেকে গুটিয়ে রাখার কারণ জানিয়ে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মধুর স্মৃতিচারণ করলেন মারুফ কামাল


প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নিজেকে গুটিয়ে রাখার কারণ জানিয়ে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মধুর স্মৃতিচারণ করলেন মারুফ কামাল

শ্রেণিকক্ষের সংকটসহ নানা সমস্যায় কামারজানী বনিক ফাজিল মাদ্রাসা

যশোরে চেয়ারম্যান প্রার্থী তাই আয়কর উকিলকে হুমকি ও চাঁদাদাবির অভিযোগ বিএনপির কয় নেতার বিরুদ্ধে মালিকুজ্জামান কাকা যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রস্তুতি নেওয়ায় আয়কর আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সীকে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, হয়রানি ও চাঁদা দাব করা হয়েছে। এই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। ৪ অক্টবর রোববার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুয়েল আক্তার মুন্সী বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইছালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এতে জনসমর্থন বাড়তে থাকায় একটি পক্ষ তার সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাত্তার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুন্না বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী সাইফুজ্জামানকে সাথে নিয়ে তার মনোহরপুর বাজারের বাড়িতে যান। এ সময় তারা তাকে গালিগালাজ করে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। জুয়েল বলেন, সাইফুজ্জামানের স্ত্রী নিশি খাতুনের সঙ্গে তার বৈবাহিক বিরোধ ও তালাকের ঘটনায় চার লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ তুলে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানান, পারিবারিক বিরোধের সময় সাইফুজ্জামান তার কাছে আইনি সহযোগিতা চাইলে তিনি আইনজীবী হিসেবে সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সাইফুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের সাথে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় গেলেও তার স্ত্রী নিশি খাতুনের সাথে তার কোনো সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়নি। পরবর্তীতে জানতে পারেন, ২৭ জুলাই দুই পরিবারের সমঝোতায় তালাক ও দেনমোহর বাবদ চার লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ওই লেনদেনের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও আদালতে মামলা করেছেন। বিষয়গুলো তদন্তাধীন থাকলেও তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জিনিয়া জুয়েল,ভাই অভি মুন্সি ও নিকট আত্মীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন।  এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাইফুজ্জামানের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হুমকি কিংবা মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি

রাতভর অভিযান শেষে ক্লান্ত শরির নিয়ে সকালেই মাঠে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশ

বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে মৃত্যু ও অবসরজনিত বিদায়

স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার ঘোষণা, বাস্তবায়ন নিয়ে থাকছে প্রশ্ন

লেখক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জীবনে বয়ে যাওয়া ঝড় এবং সেই দুঃসময়ে বিএনপির শুভাকাঙক্ষীদের অনেকের দূরে সরে যাওয়া নিয়ে  নিজের কিছু স্মৃতিচারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। 

পোস্টে লেখক ও সাংবাদিক মারুফ কামাল খান লিখেছেন— আমার ওপর দিয়ে ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে। কেউ খবরও রাখেনি। তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। সবার থেকে দূরে সরে থাকতাম। ক্যানসার, পারিবারিক বিপর্যয়, প্রকট দারিদ্র্য, দেড় শতাধিক মিথ্যে মামলার হুলিয়া মাথায় করে পলাতক জীবন, তারপর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য চুপিসারে আমেরিকায় পাড়ি জমানো....! এরপর যখন ফিরলাম, চেষ্টা করতাম আবডালেই থাকার।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে স্মৃতিচারণ নিয়ে তিনি বলেন, একদিন ফজলে এলাহি আকবরের (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) আমন্ত্রণে তাদের একটা অনুষ্ঠানে গেলাম। সেখানে এলেন চিফ গেস্ট হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দূর থেকে আমাকে দেখেই উঠে এলেন কাছে। দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে হাত মেলালাম। আমার হাত ধরে রেখেই বললেন— আপনি কি আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

আমি ভেতরের জমাটবাঁধা আবেগ সামলাতে পারলাম না। বললাম, কেন এমন চাতুরি করেন ভাই? আপনার মতো মানুষের তো এটা মানায় না। আমার পরম দুঃখের দিনে দীর্ঘকাল আমাকে উপেক্ষা করেছেন আপনারা। আমি তো কোনো কমপ্লেইন করিনি?

ছলছল করে উঠল তার চোখ দুটো। ধরা গলায় বললেন, মাফ করে দিয়েন। পারলে যোগাযোগ রেখেন।

মির্জা ফখরুলের এমন বিনয়ে সব অভিমান মুছে যায় মারুফ কামালের। ‘এরপর কি আর অভিমান করে থাকা যায়? তবে তিনি প্রচণ্ড ব্যস্ত। দল, রাজনীতি, নির্বাচন, তারপর মন্ত্রিত্ব। মাঝে মধ্যে দেখা হয় সভা-সমিতিতে।’

নিজের লেখা বই নিয়ে মারুফ কামাল বলেন, এরই মধ্যে বেরিয়ে গেল আমার লেখা 'রাজনীতির সদরে-অন্দরে' বইটি। সিদ্ধান্ত নিলাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দিয়েই বইটির মোড়ক উন্মোচন করাব। তিনিই হবেন প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রধান মেহমান। কিন্তু সময় আর তিনি দিতে পারেন না। এভাবেই পেরিয়ে গেল কয়েক মাস।

তিনি আরও বলেন, একদিন দুপুরে ফোন করলাম। আপনি কি আমার বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আসতে চান না? বললেন, (মির্জা আলমগীর) আমি এখন ঠাকুরগাঁয়। কাল ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই অভ্যুত্থানবিষয়ক আলোচনায় থাকব। আপনিও তো আলোচক। ওখানে বসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি দেখে একটা ডেট ফিক্স করব।

পর দিন তাই করলেন। এপিএস ইউনুস আলীকে বললেন, কবে ফাঁকা আছে দেখে মারুফ সাহেবকে ডেট দিয়ে দাও। ঠিক হলো ১৮ আগস্ট সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান। আমি প্রাথমিক প্রচার শুরু করলাম। কিন্তু আদপে আমার তো বিধি বাম। খবর রটে গেল মির্জা সায়েব প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ঘোষণা হয়ে গেল সিডিউলও। এরপর টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক সেমিনারে গেলাম। সেখানেও চিফ গেস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তাকে শুনিয়ে বললাম, আমি এখানে বক্তৃতা করতে আসিনি। রাষ্ট্রাচারের বাঁধনে আমি আমার প্রকাশনা অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট হারিয়ে ফেলি কিনা সেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতে এসেছি।

আমার কথায় বন্ধু তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বললেন— চিফ গেস্ট পাবার জন্য আপনি  রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বঞ্চিত রাখতে চান?

হেসে বললাম, লাগবে না চিফ গেস্ট। তবু তিনি হোন।

সাংবাদিকরা সবাই আমাকে ছেঁকে ধরল। উনিই কি হচ্ছেন? 

আমি বললাম, আমি কেমন করে বলব?

শেষ পর্যন্ত আমাকে চিফ গেস্ট বদলে প্রকাশনা অনুষ্ঠান সারতে হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় নজরুল ভাই (নজরুল ইসলাম খান) প্রধান অতিথি হয়ে আমাকে অশেষ ঋণে আবদ্ধ করেছেন। আল্লাহর অপার অনুগ্রহে আমার অনুষ্ঠান কল্পনাতীতভাবে সফল হয়েছে। সীমিত আয়োজনে অনেক অভ্যাগত অতিথিকে বসতে দিতে ও আপ্যায়িত করতে পারিনি। আমি তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে এর ব্যয়ভার বহনের জন্য আমি এবি ব্যাংক ও পরম স্নেহাস্পদ ফয়সাল মোরশেদ খানের কাছেও কৃতজ্ঞ।

১৯ তারিখে জানলাম আলমগীর ভাই আমার বইটি চেয়েছেন। আমি বইতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপক একটি বাক্য লিখে দস্তখত করে দিলাম। আমার প্রকাশক সূচিপত্রের সাঈদ বারী মির্জা সাহেবের সরকারি বাসায় গিয়ে বইটি তাকে দিয়ে এসেছেন। আলমগীর ভাই বইটি হাতে করে সাঈদ বারী ও তার সঙ্গী দেলোয়ার হাসানের সঙ্গে ফটো তুলেছেন। বারবার করে বলেছেন, আমি অনুষ্ঠানটি ভীষণ মিস করেছি।

পর দিনই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ধন্যবাদ আলমগীর ভাই। অভিনন্দন। শুভকামনা।

বেদনা ও আনন্দের দিনগুলোর অজস্র স্মৃতি আমাদের দুজনের মনের মণিকোঠায় জমে আছে এবং থাকবে। এর অনেক কিছুই হয়তো কেউ কখনোই জানবে না।

ভালো থাকবেন।

বিষয় : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মারুফ কামাল খান

GTV

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


নিজেকে গুটিয়ে রাখার কারণ জানিয়ে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মধুর স্মৃতিচারণ করলেন মারুফ কামাল

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লেখক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জীবনে বয়ে যাওয়া ঝড় এবং সেই দুঃসময়ে বিএনপির শুভাকাঙক্ষীদের অনেকের দূরে সরে যাওয়া নিয়ে  নিজের কিছু স্মৃতিচারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। 

পোস্টে লেখক ও সাংবাদিক মারুফ কামাল খান লিখেছেন— আমার ওপর দিয়ে ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে। কেউ খবরও রাখেনি। তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। সবার থেকে দূরে সরে থাকতাম। ক্যানসার, পারিবারিক বিপর্যয়, প্রকট দারিদ্র্য, দেড় শতাধিক মিথ্যে মামলার হুলিয়া মাথায় করে পলাতক জীবন, তারপর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য চুপিসারে আমেরিকায় পাড়ি জমানো....! এরপর যখন ফিরলাম, চেষ্টা করতাম আবডালেই থাকার।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে স্মৃতিচারণ নিয়ে তিনি বলেন, একদিন ফজলে এলাহি আকবরের (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) আমন্ত্রণে তাদের একটা অনুষ্ঠানে গেলাম। সেখানে এলেন চিফ গেস্ট হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দূর থেকে আমাকে দেখেই উঠে এলেন কাছে। দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে হাত মেলালাম। আমার হাত ধরে রেখেই বললেন— আপনি কি আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

আমি ভেতরের জমাটবাঁধা আবেগ সামলাতে পারলাম না। বললাম, কেন এমন চাতুরি করেন ভাই? আপনার মতো মানুষের তো এটা মানায় না। আমার পরম দুঃখের দিনে দীর্ঘকাল আমাকে উপেক্ষা করেছেন আপনারা। আমি তো কোনো কমপ্লেইন করিনি?

ছলছল করে উঠল তার চোখ দুটো। ধরা গলায় বললেন, মাফ করে দিয়েন। পারলে যোগাযোগ রেখেন।

মির্জা ফখরুলের এমন বিনয়ে সব অভিমান মুছে যায় মারুফ কামালের। ‘এরপর কি আর অভিমান করে থাকা যায়? তবে তিনি প্রচণ্ড ব্যস্ত। দল, রাজনীতি, নির্বাচন, তারপর মন্ত্রিত্ব। মাঝে মধ্যে দেখা হয় সভা-সমিতিতে।’

নিজের লেখা বই নিয়ে মারুফ কামাল বলেন, এরই মধ্যে বেরিয়ে গেল আমার লেখা 'রাজনীতির সদরে-অন্দরে' বইটি। সিদ্ধান্ত নিলাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দিয়েই বইটির মোড়ক উন্মোচন করাব। তিনিই হবেন প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রধান মেহমান। কিন্তু সময় আর তিনি দিতে পারেন না। এভাবেই পেরিয়ে গেল কয়েক মাস।

তিনি আরও বলেন, একদিন দুপুরে ফোন করলাম। আপনি কি আমার বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আসতে চান না? বললেন, (মির্জা আলমগীর) আমি এখন ঠাকুরগাঁয়। কাল ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই অভ্যুত্থানবিষয়ক আলোচনায় থাকব। আপনিও তো আলোচক। ওখানে বসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি দেখে একটা ডেট ফিক্স করব।

পর দিন তাই করলেন। এপিএস ইউনুস আলীকে বললেন, কবে ফাঁকা আছে দেখে মারুফ সাহেবকে ডেট দিয়ে দাও। ঠিক হলো ১৮ আগস্ট সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান। আমি প্রাথমিক প্রচার শুরু করলাম। কিন্তু আদপে আমার তো বিধি বাম। খবর রটে গেল মির্জা সায়েব প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ঘোষণা হয়ে গেল সিডিউলও। এরপর টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক সেমিনারে গেলাম। সেখানেও চিফ গেস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তাকে শুনিয়ে বললাম, আমি এখানে বক্তৃতা করতে আসিনি। রাষ্ট্রাচারের বাঁধনে আমি আমার প্রকাশনা অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট হারিয়ে ফেলি কিনা সেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতে এসেছি।

আমার কথায় বন্ধু তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বললেন— চিফ গেস্ট পাবার জন্য আপনি  রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বঞ্চিত রাখতে চান?

হেসে বললাম, লাগবে না চিফ গেস্ট। তবু তিনি হোন।

সাংবাদিকরা সবাই আমাকে ছেঁকে ধরল। উনিই কি হচ্ছেন? 

আমি বললাম, আমি কেমন করে বলব?

শেষ পর্যন্ত আমাকে চিফ গেস্ট বদলে প্রকাশনা অনুষ্ঠান সারতে হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় নজরুল ভাই (নজরুল ইসলাম খান) প্রধান অতিথি হয়ে আমাকে অশেষ ঋণে আবদ্ধ করেছেন। আল্লাহর অপার অনুগ্রহে আমার অনুষ্ঠান কল্পনাতীতভাবে সফল হয়েছে। সীমিত আয়োজনে অনেক অভ্যাগত অতিথিকে বসতে দিতে ও আপ্যায়িত করতে পারিনি। আমি তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে এর ব্যয়ভার বহনের জন্য আমি এবি ব্যাংক ও পরম স্নেহাস্পদ ফয়সাল মোরশেদ খানের কাছেও কৃতজ্ঞ।

১৯ তারিখে জানলাম আলমগীর ভাই আমার বইটি চেয়েছেন। আমি বইতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপক একটি বাক্য লিখে দস্তখত করে দিলাম। আমার প্রকাশক সূচিপত্রের সাঈদ বারী মির্জা সাহেবের সরকারি বাসায় গিয়ে বইটি তাকে দিয়ে এসেছেন। আলমগীর ভাই বইটি হাতে করে সাঈদ বারী ও তার সঙ্গী দেলোয়ার হাসানের সঙ্গে ফটো তুলেছেন। বারবার করে বলেছেন, আমি অনুষ্ঠানটি ভীষণ মিস করেছি।

পর দিনই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ধন্যবাদ আলমগীর ভাই। অভিনন্দন। শুভকামনা।

বেদনা ও আনন্দের দিনগুলোর অজস্র স্মৃতি আমাদের দুজনের মনের মণিকোঠায় জমে আছে এবং থাকবে। এর অনেক কিছুই হয়তো কেউ কখনোই জানবে না।

ভালো থাকবেন।


GTV

শেখ তিতুমীর - চেয়ারম্যান-জাতীয় অনলাইন প্রেস কাউন্সিল(কেন্দ্রীয় পরিষদ) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-(স্থায়ী কমিটির সদস্য) সাবেক বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল-(সদস্য) সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলাদেশ ক্রাইম ২৪ নির্বাহী কর্মকর্তা: ড.আকাশ শীল (সাংবাদিকতায় সম্মানসূচক ডক্টর ডিগ্রী প্রাপ্ত.American Merit Council প্রকাশক: আকাশ শীল সম্পাদক: শিব শংকর সহ- সম্পাদক: লিজা আক্তার হেড এডিটর:শাহিনুর রহমান দপ্তর সম্পাদক: সুমা আক্তার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নিজেকে গুটিয়ে রাখার কারণ জানিয়ে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মধুর স্মৃতিচারণ করলেন মারুফ কামাল
0:00 0:00
1.0x