গাইবান্ধায় ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডল:
গাইবান্ধা আদালতে এফিডেভিটের কপিতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির ঘটনায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী একটি পরিবার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পলাশবাড়ী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই এলাকার সাকোয়াত হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে আসাদুজ্জামান বলেন, তার পিতা সাকোয়াত হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ও বাবা-মায়ের নামের তথ্য ভুল রয়েছে। এসব তথ্য সংশোধনের জন্য গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে তারা গাইবান্ধা সিনিয়র চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যান। সেখানে আইনজীবী মোঃ গোলাম আজমের মাধ্যমে নাম সংশোধনের জন্য এফিডেভিট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এফিডেভিটের কাগজ প্রস্তুত করে তার পিতার স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ওই এফিডেভিটে গাইবান্ধা আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জালিয়াতি করা হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।
আসাদুজ্জামানের দাবি, এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বাদী হয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার অভিযোগে তার, তার পিতা সাকোয়াত হোসেনসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, তারা বিষয়টির প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবগত না থাকায় এখন মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান ও তার পরিবার নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামানের পিতা সাকোয়াত হোসেন, বড় ভাই আরিফ হোসেন, বড় বোন মমতা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।