গাইবান্ধায় কৃষি বিভাগের গেস্ট হাউসে এক বছর ধরে কর্মকর্তা,দৈনিক ভাড়া মাত্র ৮০ টাকা।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
এসি-গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন
গাইবান্ধায় কৃষি বিভাগের গেস্ট হাউসে জেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান প্রায় এক বছর ধরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একজন সরকারি কর্মকর্তা গেস্ট হাউসে অবস্থান করায় এর নিয়মনীতি, অনুমোদন এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, গেস্ট হাউসে অবস্থানকালে এসি, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছেন ওই কর্মকর্তা। অথচ এসব সুবিধা ব্যবহারের বিপরীতে প্রতিদিন মাত্র ৮০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করছেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগের উপ-পরিচালকদের সময়ে করা একটি রেজুলেশনের ভিত্তিতেই এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তবে প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মকর্তা কি পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের করা রেজুলেশনের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগের গেস্ট হাউসে টানা এক বছর অবস্থান করতে পারেন? গেস্ট হাউস সাধারণত স্বল্পমেয়াদি অতিথি বা দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ এক বছর অবস্থানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুমোদন, মেয়াদ বা কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি স্থাপনা দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহারের ফলে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা সরকারি কাজে আগত অতিথিদের জন্য গেস্ট হাউস ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা জেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি পূর্ববর্তী উপ-পরিচালকদের করে যাওয়া রেজুলেশনের ভিত্তিতেই গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন এবং নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করছেন।তবে দীর্ঘদিন গেস্ট হাউসে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে এখন থেকে আর থাকবো না, প্রয়োজনে মেসে থেকে অফিস করবো।”এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, গেস্ট হাউসে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধি রয়েছে, কতদিন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা সেখানে থাকতে পারেন এবং দৈনিক ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয় সরকারি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন যাচাই করেই পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।তবে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি গেস্ট হাউস, এসি বিদ্যুৎ গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তা নির্ধারিত নীতিমালা আদৌ মেনে চলেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।